আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 12 December 2025 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার এনুমারেশন পর্ব (Enumeration Form) শেষ হয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিধানসভাওয়ারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে কমিশন (Election Commission) বলছে, বাংলায় খসড়া তালিকা (Draft List) থেকে মোট নাম বাদ যাচ্ছে (Un Collectable Form) ৫৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৫১ (৭.৫৯%) জনের। যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ২১০ নন্দীগ্রাম (Nandigram) বিধানসভা কেন্দ্রেই রয়েছে ১০ হাজার ৫৯৯ (৩.৮১%) জন।
এই আন-কালেক্টেবল ফর্মের মধ্যে রয়েছে
মৃত ভোটার ৪,৫৬৯ জন (১.৬৪%)
নিখোঁজ ভোটার ১,১০৮ জন (০.৪%)
স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার ৪ হাজার ৩৯৬ জন (১.৫৮%)
ডুপ্লিকেট ভোটার ৪৯১ জন
অন্যান্য ৩৫ জন
কমিশনের তথ্য বলছে, এঁদের মদ্যে সেল্ফ বা নিজস্ব ম্যাপিং করিয়েছেন ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫২৭ জন অর্থাৎ ৩৯.০১ শতাংশ। প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭৬৩ জন অর্থাৎ ৫৫.৯৯ শতাংশ। শুভেন্দুর কেন্দ্রে অনলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন ৬ জন।
এখানে জেনে রাখা দরকার, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা সেলফ বা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজিনি ম্যাপিং তালিকায়। যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নাম বাদ যাচ্ছে ৪৪ হাজার ৭৮৭ (২১.৭১%) জন। তুল্যমূল্য বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা ভবানীপুরে যে সংখ্যায় নাম বাদ পড়েছে, তার চার ভাগের এক ভাগ নাম বাদ পড়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নন্দীগ্রামে।
গত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। কিন্তু শেষে দেখা যায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে মমতা পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দুর কাছে। যা নিয়ে মামলাও হয়। পরে মমতা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই নির্বাচনে মমতার জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোট।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে কমিশন। তা প্রকাশ করা হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।