বোলপুর থানার আইসি-র বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের কদর্য ভাষায় আক্রমণের ঘটনার জেরে বীরভূমের পুলিশ সুপার (Birbhum Police Super) অমনদীপকে দিল্লিতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুব্রতকাণ্ডে বীরভূমের এসপিকে দিল্লিতে তলব
শেষ আপডেট: 25 June 2025 07:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Anubrata Mondal Viral Audio Case) তদন্তে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women)। বীরভূমের এসপিকে ডেকে পাঠানো হল দিল্লিতে।
বোলপুর থানার আইসি-র বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের কদর্য ভাষায় আক্রমণের ঘটনার জেরে বীরভূমের পুলিশ সুপার (Birbhum Police Super) অমনদীপকে দিল্লিতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁকে কমিশনের অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
পুলিশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? জাতীয় মহিলা কমিশনের দাবি, পুলিশের তরফে দাখিল করা রিপোর্টে এফআইআর আপলোডের ব্যাখ্যা এড়ানো হয়েছে। কেন অনুব্রত মণ্ডলের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে কমিশন। এছাড়া আদালতে অনুব্রত জামিন না চাওয়ার পরও পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বীরভূমের এসপিকে ১ জুলাই বেলা ১২টার মধ্যে দিল্লিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। কোনও কারণে এসপি হাজিরা না দিতে পারলে বোলপুরের অতিরিক্ত এসপি বা এসডিপিও-কে প্রয়োজনীয় নথিসহ উপস্থিত থাকতে হবে। কমিশনের তরফে পরিষ্কারভাবে একথাও বলা হয়েছে, হাজিরা না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, অনুব্রতকাণ্ডে বীরভূম পুলিশ জোড়া রিপোর্ট জমা দিলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে কমিশন। কেন অভিযোগ তদন্তে উদাসীনতা, তার উত্তর চাইছে তারা। এই নির্দেশ ঘিরে বীরভূম জেলা পুলিশ প্রশাসনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইন অনুযায়ী মহিলা কমিশনের নির্দেশ মেনে না চললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মে মাসের শেষে। সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল (Viral Audio Clip) হয়। (দ্য ওয়াল সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি)। তবে অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, অভিযোগ, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা'র সম্পর্কেও নোংরা কথা বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএস আইনের চারটি ধারায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ধারা গুলি হল ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫। অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। তাঁকে তলবও করা হয়। কিন্তু আইন মেনে এখনও কেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করল না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন।