মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) লালগোলার তারানগরে পদ্মার ভাঙন পরিদর্শনে গিয়ে '২৬-এর বিধানসভা ভোট বয়কটের (Vote Boycott) ডাক দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি।

নওসাদ সিদ্দিকি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) লালগোলার তারানগরে পদ্মার ভাঙন পরিদর্শনে গিয়ে '২৬-এর বিধানসভা ভোট বয়কটের (Vote Boycott) ডাক দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের কাজ করতে হবে, অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। না হলে আসন্ন বিধানসভা ভোট বয়কট করুন, দেখবেন সব ব্যাটা পায়ে এসে পড়বে।"
পুজোর মুখে দ্বিতীয়বার লালগোলার তারানগরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। মাত্র দু’ঘণ্টার ভাঙনে ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। নদীর পাড়ে ঝুলে থাকে বেশ কয়েকটি বাড়ি। এই ভাঙনের ফলেই গৃহহীন পরিবারগুলি এখন খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ, এখনও বাঁধ ঠিক করার কোনও নাম গন্ধ নেই সরকারের।
ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে ঠিকই কিন্তু পাকাপোক্ত ভাবে বাঁধ তৈরির কোনও সদিচ্ছা দেখানো হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শনে যান নওসাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, "যারা হাজিদের চায়ের টাকা মেরে খায়, তাঁরা এলাকার মানুষের পুনর্বাসনের টাকা মেরে খাবে না, এটা বিশ্বাস হয় না আমার। যারা শ্মশানের, কবরস্থানের টাকা মেরে খায় তাদের বিশ্বাস করা যায় না।"
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, "এই ভাঙনে একা রাজ্যের তো দায় নেই। এই নদী আন্তর্জাতিক নদী। অথচ কিছু অপদার্থ সংসদে গিয়ে মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারে না। এলাকার মানুষের কথা বলতে পারে না। খালি এখানে এসে বড় বড় কথা বলে। আপনারা সাংসদকে বলবেন, আমি এসে তাঁকে অপদার্থ বলে গিয়েছি। এটা তাও আমি ভাল ভাষায় বলছি। ক'দিন অপেক্ষা করার পর যদি দেখি পুনর্বাসন হয়নি, তখন র ভাষায় কথা বলব।"
বস্তুত, আগস্ট মাস থেকে তারানগরে পদ্মার ভাঙন চলছে। গত একমাসে কয়েক দফা ভাঙনে ১২টি বাড়ি, রাস্তা, ১৫-২০ বিঘা চাষের জমি, আম-লিচু বাগান এবং প্রচুর সংখ্যায় গাছপালা নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙনে গৃহহীন পরিবারগুলি বসতভিটে হারিয়ে স্কুলের ত্রাণশিবিরে, আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পদ্মার বিধ্বংসী রুপে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই জিনিসপত্রের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভেঙে দরজা-জানালা খুলে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
কিন্তু পুজোর মুখে ফের নদীভাঙনে তারানগরবাসীর চোখের সামনে ১৫টি বাড়ি গিলে খায় পদ্মা। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না এলাকাবাসীদের। এমন পরিস্থিতিতে লালগোলায় গিয়ে নওসাদ স্থানীয়দের খানিকটা বরাভয় দেওয়ার চেষ্টা তো করলেনই, পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে।