টেট উত্তীর্ণদের কেন এখনই নিয়োগ জরুরি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে নওসাদ বলেন - দেড় লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে যদি ৫০ হাজারও নিয়োগ হয় তাহলে কিছুটা সুরাহা হবে।

নওসাদ সিদ্দিকীকে ডেপুটেশন জমা দিলেন টেট উত্তীর্ণরা
শেষ আপডেট: 16 September 2025 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগের (Recruitment) দাবিতে ফের সরগরম রাজ্য (West Bengal)। মঙ্গলবার ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা (2022 TET Passed Candidates) আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর (Naushad Siddiqui) সঙ্গে দেখা করেন এবং ডেপুটেশন (Deputation) জমা দেন। চাকরিপ্রার্থীরা প্রাইমারিতে ন্যূনতম ৫০ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবি তুলেছেন এবং নওসাদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তাঁরা যেন চাকরিপ্রার্থীদের পাশে থাকেন।
চাকরির দাবিতে সরব হওয়া প্রার্থীদের দীর্ঘ দিনের লড়াইকে সন্মান জানিয়ে বিধায়ক বিধানসভাতে সোচ্চার হয়েছিলেন। একই সঙ্গে, কয়েকদিন আগে সমাজ মাধ্যমেও দাবি তোলেন। যদিও আখেরে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। সেই প্রেক্ষিতে বলা যায়, ২০২২ টেট উত্তীর্ণরা আবারও পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক (ISF MLA) নওসাদ সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্য, ২০২১-২২ সালের পর থেকে প্রাথমিকে প্রায় দেড় লক্ষ শূন্যপদ তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু নিয়োগ নেই। যে সমস্ত বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে তারা আদৌ পড়াশোনা করতে পারছে না মিড-ডে মিল খেয়ে চলে আসছে, কেউ জানে না। নওসাদের অভিযোগ, বুনিয়াদী শিক্ষাকে নষ্ট করছে রাজ্য সরকার, গোড়াতেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।
টেট উত্তীর্ণদের কেন এখনই নিয়োগ জরুরি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে নওসাদ বলেন - দেড় লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে যদি ৫০ হাজারও নিয়োগ হয় তাহলে কিছুটা সুরাহা হবে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যাদের সন্তানরা সরকারি স্কুলে পড়তে যায় তারা অন্তত পড়াশোনাটুকু করতে পারবে এবং আর্থিকভাবে প্রায় সাড়ে ৮-৯ লক্ষ মানুষ বাঁচবে।
রাজ্য সরকারকে বিঁধে তিনি এও বলেন, নিয়োগ বন্ধের জন্যই স্কুলগুলি থেকে পড়ুয়ারা পালিয়ে যাচ্ছে, স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। কারও পড়াশোনায় মন নেই কারণ পড়ানোর কেউ নেই। একটু বয়স হলে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে কাজ করতে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরতে গেলে দ্রুত নিয়োগ চাই, স্পষ্ট কথা নওসাদ সিদ্দিকীর।
প্রসঙ্গত, সোমবারই প্রাথমিক স্তরে 'স্পেশ্যাল এডুকেশন' শিক্ষকদের সরাসরি নিয়োগের (Special Education Teacher Recruitment) জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)। জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি, সরকার-সহায়ক ও সরকার-পোষিত প্রাথমিক ও জুনিয়র স্কুলে মোট ২ হাজার ৩০৮টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। আবশ্যিক যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে — আরসিআই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ শিক্ষায় ডি.এড. বা সমতুল্য ডিপ্লোমা এবং বৈধ সিআরআর নম্বর। পাশাপাশি, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় ন্যূনতম ছ’মাসের প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। ১ জানুয়ারি ২০২৫ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তফসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি ও বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় দেওয়া হবে সরকার নির্ধারিত নিয়মে।
শিক্ষার মাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে সেই স্কুলের নির্দিষ্ট বিষয় বা ভাষা পড়াতে সক্ষম হতে হবে। এছাড়া শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টেট) উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যারা ইতিমধ্যেই টেট পাশ করেছেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে — টেট পরীক্ষার জন্য ৮০ এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান ও সাক্ষাৎকারের জন্য মোট ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।