কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাবে। শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রায় তাঁদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে নিয়েছে।

বাম-আইএসএফের বৈঠক
শেষ আপডেট: 26 February 2026 00:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল আলিমুদ্দিনে একদফা বৈঠকের পর মনে করা হয়েছিল হয়তো আজ অর্থাৎ বুধবারই চূড়ান্ত হতে পারে বাম-আইএসএফ জোট (CPIM-ISF alliance)। তবে এদিনের বৈঠক শেষে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির (ISF MLA Naushad Sidddiqui) কথায় স্পষ্ট হল জোট নিয়ে এখনও ভাবার সময় চাইছে দুপক্ষই।
এদিন আলিমুদ্দিনে (Alimuddin) বৈঠক সেরে বেরিয়ে নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui) বলেন, 'আজ কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছি।' তাঁর বার্তা, 'প্রয়োজনে অনেকটা ত্যাগ করতে রাজি আছি তবে আইএসএফের (ISF) কোর সিটগুলি কোনওমতেই ছাড়তে পারব না।'
আইএসএফের এই সিদ্ধান্ত জানার পরই বামেদের (CPIM) তরফে চিন্তা-ভাবনার জন্য আরও কয়েকটা দিন সময় চাওয়া হয়েছে। এদিকে বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে রাজিও হয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে এখনও জটিলতা
কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাবে। শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রায় তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এই অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে লড়ার টার্গেট নেওয়া বাম-আইএসএফ এখনও জোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারল না। যদিও এই বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ নওশাদ। তাঁর কথায়, 'আমরা চাইছি বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব মিটে যাক। তবে দলের মধ্যে আলোচনা থাকবেই।'
"বিজেপি-তৃণমূল (BJP-TMC) আলাদা দল নয়, তারাও ভাগাভাগির কাজ করছে। আগে সিএএ-র ভয় দেখিয়ে '২১ পার করেছে এবার এসআইআরের (SIR) ভয় দেখিয়ে ভোট পার করতে চাইছে। কিন্তু আমরা এই রাজনীতি করি না।" কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন আইএসএফ বিধায়ক।
২০২১ সালের নির্বাচনে (2021 WB Assembly Election) একই আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক ও আইএসএফ। এবারে যাতে এমন কোনও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কারণেই এত আগে থেকে জোট নিয়ে আলোচনা সেরে ফেলতে চাইছে বাম-আইএসএফ (CPIM-ISF)।
আগের কয়েক দফার আলোচনায় ইতিমধ্যেই কিছু আসন নিয়ে দর কষাকষি করে ফেলেছে দুই দল। আইএসএফ বেশ কয়েকটি আসন বামেদের জন্য ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে কয়েকটি মূল আসন, কোনও সমঝোতাতেই হাতছাড়া করতে চায় না। তবে সেই আসনগুলি কী কী, তা এখনই খোলসা করে বলতে চাইছেন না নওশাদ।
হুমায়ুনের সঙ্গে জোট করবে আইএসএফ?
ভোটের আবহে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) তাঁর দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' (Janata Unnayan Party) প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুরু থেকেই বাম, আইএসএফের (ISF) সঙ্গে জোট নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এবারে কি তাঁর সঙ্গে জোট করবেন নওশাদ? এর উত্তরে তিনি বলেন, "অনেক দলই আমাকে জোটে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আমি প্রত্যেকেরই বামেদের সঙ্গে আলোচনা করানোর চেষ্টা করছি।' যদিও জোট নিয়ে আলোচনায় আইএসএফ ও বামেদেরকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন নওশাদ।
এদিকে, কয়েকদিন আগেই হুমায়ুন কবীর দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “সিপিএম বা আইএসএফ আমার সঙ্গে থাকলে লড়াইটা জোরালো হবে। যদি না-ও থাকে, আমি নিজের হাতে গড়া ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র পক্ষ থেকে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেব। মানুষের ওপর আমার অগাধ ভরসা আছে। এ বার আমি এ-টিমের ক্যাপ্টেন হয়েই মাঠে নামব। বি-টিমের ক্যাপ্টেনসি হুমায়ুন কবীর অন্তত করে না।”