গণতন্ত্র কোথায়?, নওসাদদের এই সরল প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

নওসাদ সিদ্দিকি।
শেষ আপডেট: 21 August 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আমি শুধু কাঁদতে চেয়েছিলাম, সেটাও রাজ্য সরকার করতে দিল না!"— জামিনে মুক্তির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddiqui)। অভিযোগ করলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আঁতাতেই তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে রুখে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ধর্মতলায় ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে এবং এসআইআরের নামে মুসলিম সমাজের একাংশের ‘হয়রানির’ বিরুদ্ধে ধর্না ও অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছিল আইএসএফ (ISF)। সেই কর্মসূচিতে রাজ্য পুলিশের ‘হস্তক্ষেপে’ তৈরি হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, পুলিশের (Police) এক কর্মীর ঘুষিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিধায়ক নিজে। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ধর্মতলা চত্বরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পরে হেয়ার স্ট্রিট ও বউবাজার থানার পুলিশ যৌথভাবে মোট ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে ছিলেন বিধায়ক নওসাদও। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
জেল থেকে বেরিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নওসাদ বলেন, "আমাদের হাতে ছিল না অস্ত্র, না লাঠি। কেবল আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলছিলাম। মাদ্রাসা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, ওবিসি সার্টিফিকেট কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার পরিবার পরিযায়ী শ্রমিক— সেখানেও চলছে শোষণ। এর প্রতিবাদে ধর্নামঞ্চে কাঁদতে চেয়েছিলাম, তাতেও এই সরকার বাধা দিল!"
তাঁর আরও দাবি, কোর্টে বিচারপতির প্রশ্নের কোনও জবাবই দিতে পারেনি পুলিশ। "এটা শুধু রাজ্য সরকারের কাজ নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশ্রয়ে এই দমনপীড়ন চলছে," অভিযোগ নওসাদের।
আইএসএফ বিধায়কের গ্রেফতারির ঘটনায় সরব বিরোধীরাও। বিজেপির দিলীপ ঘোষ বলেন, "একজন নির্বাচিত বিধায়ক যদি পুলিশের হাতে মার খান, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?" কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, "এভাবে গণতন্ত্রকে রোজ হত্যা করা হচ্ছে।"
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যদি এভাবে রক্তাক্ত হয়, তবে কি সত্যিই বাকস্বাধীনতা বিপন্ন? রাজ্য সরকার কিংবা শাসক দল, কারও তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
গণতন্ত্র কোথায়?, নওসাদদের এই সরল প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।