দলে নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে দিলীপের ব্যাখ্যা, “আমি রিজার্ভ ফোর্সের মতো থাকি! অর্ডার এলে কাজে নামি।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দিলীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 21 August 2025 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। শুক্রবার নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi) সরকারি কর্মসূচিকে ঘিরে যখন গোটা সংগঠন সরগরম, তখন নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণ করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে জল্পনা আরও তীব্র হল।
তাঁর গলাতেই শোনা গেল অভিমান-অসন্তোষের আভাস, “কাল (শুক্রবার) যাব কিনা ঠিক করিনি। আমন্ত্রণ পাইনি। নাও যেতে পারি। অন্য কাজে চলে যেতে পারি! আমি কোথায় যাব সেটা আমি ঠিক করিনা, পার্টি ঠিক করে।”
দিলীপ ঘোষ একসময় ছিলেন বিজেপির আক্রমণাত্মক মুখ। টানা ছ’ বছর রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর রণংদেহী ভাষণ, আক্রমণাত্মক রাজনীতিই তাঁকে কর্মী-সমর্থকদের কাছে আলাদা জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তিনি যেন দলের ক্রমশ প্রান্তসীমায। গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি যেন এখন নিয়মিত ছবি।
অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁকে সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দিলীপের সোজাসাপ্টা জবাব, “এটা তো পুরোপুরি পার্টির হাতে। যে যেরকম বলবে, সেরকম করব। আমার কিছু করার নেই।”
দলে নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে দিলীপের ব্যাখ্যা, “আমি রিজার্ভ ফোর্সের মতো থাকি! অর্ডার এলে কাজে নামি।”
প্রসঙ্গত এর আগে গত মাসে দুর্গাপুরে মোদী যখন এসেছিলেন তখনো আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। বরং সেদিনই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
তাহলে কি দিলীপ ঘোষের অভিমান দানা বাঁধছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির ভেতরে তাঁর গুরুত্ব যে আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি অভিমানী তকমা মানতে নারাজ।
এদিকে, ফের আটক হয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপের তীব্র কটাক্ষ, “এখানে তো একজন বিধায়কের কোনো স্বাধীনতা নেই। প্রতিবাদ করলেই জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ না হোক, তাই বিরোধীদের আটকানো হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর রাজ্য সফরে দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি শুধুই প্রোটোকলের ব্যাপার নয়। এর মধ্যেই রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা। রাজ্যে যেখানে বিজেপি এখনও সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল, সেখানে প্রাক্তন সভাপতিকে পাশে না পাওয়া দলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের। এর মধ্যেই বিজেপির ভেতরে টানাপোড়েন নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছ না শাসক শিবির।