ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। অনেকেই বলছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেই যদি পুলিশের লাঠি উঠে আসে, তবে কোথায় রইল গণতন্ত্র?

নওসাদ সিদ্দিকি।
শেষ আপডেট: 21 August 2025 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ-সহ একাধিক অভিযোগে বুধবার ধর্মতলা থেকে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি (ISF MLA Nawsad Siddiqui)-সহ ৯৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ (Kolkata Police)। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। সেখানে শর্ত সাপেক্ষে নওসাদ-সহ ৯৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
জামিন পাওয়ার পর রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করে নওসাদ বলেন, এভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমাতে পারবে না।
সংশোধিত ওয়াকফ আইন বাতিল এবং এসআইআরের নাম করে হয়রানির প্রতিবাদে বুধবার ধর্মতলায় ধর্না, অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছিল আইএসএফ। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় আন্দোলনকারীদের। অভিযোগ, পুলিশি (Police) হস্তক্ষেপের সময় বিধায়ক নওসাদকে ঘুষি মারেন এক পুলিশকর্মী। মূহুর্তে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
চোখের সামনে বিধায়কের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইএসএফ সমর্থকেরা। বিক্ষোভ, ধ্বস্তাধ্বস্তি, পুলিশকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেয় উপস্থিত জনতা। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে যেতে চাইলে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বাড়তি বাহিনী।
এভাবে বিনা অনুমতিতে মিছিল, সরকারি কাজে বাধা দান-সহ একাধিক অভিযোগে নওসাদকে প্রথমে আটক, পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ নওসাদ-সহ ৮৪ জনকে এবং বউ বাজার থানার পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। এদিন ধৃতদের শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দিয়েছে আদালত।
নওসাদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধীরাও। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ থেকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। একজন বিধায়ক যদি রক্ষা না পান, তবে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা!’’
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। অনেকেই বলছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেই যদি পুলিশের লাঠি উঠে আসে, তবে কোথায় রইল গণতন্ত্র?