ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতা আরাবুলকে প্রার্থী করায় বামেরা যে প্রবল ক্ষুব্ধ, তা বৃহস্পতিবার সকালেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সেলিম।

মহম্মদ সেলিম, আরাবুল ইসলাম ও নওশাদ সিদ্দিকি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানিং পূর্ব আসনে তৃণমূলত্যাগী আরাবুল ইসলামকে (Arabul Islam) প্রার্থী করা নিয়ে বাম-আইএসএফ (Left ISF) জোটে ফাটল এবার কার্যত প্রকাশ্যে। বৃহস্পতিবার সিপিএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) কড়া বার্তার পর রাতে পাল্টা তোপ দাগলেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। সাফ জানিয়ে দিলেন, আইএসএফ (ISF) কোনও দলের ‘লেজুড়বৃত্তি’ করবে না এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অন্য কারও ‘শাসানি’ বরদাস্ত করা হবে না।
ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতা আরাবুলকে প্রার্থী করায় বামেরা যে প্রবল ক্ষুব্ধ, তা বৃহস্পতিবার সকালেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সেলিম। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, “দুর্বৃত্তকে বগলদাবা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।” এমনকি গত পঞ্চায়েত ভোটে আইএসএফ কর্মী খুনে আরাবুলের অভিযুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নিচুতলার কর্মীদেরও আবেগ উসকে দিয়েছিলেন সেলিম।
বৃহস্পতিবার রাতে তার কড়া জবাব দিয়ে নওশাদ বলেন, “আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে, সেটা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা অন্য কোনও দলের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে পারি না বা কারও লেজুড়বৃত্তি করতে পারি না।” সেলিমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর সাফ কথা, প্রার্থী নিয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সেখানে অন্য কোনও দলের খবরদারি মানা হবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশ কিছুদিন ধরেই আসন সমঝোতা নিয়ে বাম ও আইএসএফ-এর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। আরাবুল-ইস্যু সেই আগুনে ঘি ঢালল। এক সময় যাঁর হাতে আইএসএফ কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ, আজ সেই আরাবুলকেই জোটে শরিক হিসেবে মেনে নিতে ঘোর আপত্তি আলিমুদ্দিনের। কিন্তু নওশাদের অনমনীয় মনোভাব বুঝিয়ে দিল, জোটের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত সুতোয় ঝুলছে।
ছাব্বিশের ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে দুই শিবিরের এই ‘চাপানউতর’ ভাঙড় এবং ক্যানিংয়ের জনবিন্যাসে কী প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত জোট অটুট থাকে কি না, এখন সেটাই দেখার।
বস্তুত, ২০০৬ সালে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম (CPIM) প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে হারিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন আরাবুল। তখন বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৩০ জন বিধায়কের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তবে ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়াতেও বিদ্রোহী প্রার্থী নান্নু হোসেনের কারণে ভোটে ভাঙন ধরে এবং সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলে তাঁর গুরুত্ব কমতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়।