দ্য ওয়াল ব্যুরো: কতদিন আর জমানো টাকায় চলা যায়! তাই গয়নার দোকানই রাতারাতি হয়ে গেল সবজির দোকান।
হুকুমচাঁদ সোনি। রাজস্থানের জয়পুরের রামনগরে তাঁর ২৫ বছরের গয়নার দোকান। কিন্তু লকডাউনের ধাক্কায় বিপাকে পড়েই বিকল্প ব্যবস্থা করে নিয়েছেন তিনি।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে হুকুমচাঁদ জানিয়েছেন, "আমার অনেকটাকা জমানো নেই। তাই বসে বসে আর কতদিন চলবে!" গত চারদিন ধরে হুকুমচাঁদের রুটিন কাক ভোরে সবজি মাণ্ডিতে চলে যাওয়া। তারপর পাইকারি দরে সবজি কিনে একটা রিকশ বা অন্য কোনও গাড়ি ধরে.সকাল সাতটার মধ্যে দোকান সাজিয়ে ফেলা।
এই গয়না ব্যবসায়ী বলেন, "আমার দোকান অনেক বড় নয়। তবে সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কতদিন আর বসে বসে জমানো টাকায় খাব। তাই ভাবলাম সবজিই বিক্রি করি। বেঁচে তো থাকতে হবে!"
এমনিতে জয়পুরে হাজারো ছোট ছোট গয়নার দোকান রয়েছে। সব যে সোনার তা নয়। কোথাও হয়তো ধাতুর গয়না তৈরি হয় কোথাও আবার গালার কাজ।
২৫ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন জিনিসের দোকান। ফলে হুকুম চাঁদের গয়নার দোকানও বাদ ছিল না। তিনি বলেন, "বাড়িতে আমি একাই রোজগার করি। স্ত্রী, সন্তান রয়েছেন। চলবে কী করে!"
করোনাভাইরাসের ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ভারতও তাঁর বাইরে নয়। কোটি কোটি মানুষের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, অর্থনীতির উপর ঠিক কতটা আঘাত হেনেছে কোভিড জয়পুরের এই গয়না বিক্রেতার ব্যবসা বদলই তা বলে দিচ্ছে।