শ্রী রামকৃষ্ণদেবের কথামৃতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, "কথামৃতের যে কোনও মনস্ক পাঠক জানেন, শ্রী শ্রী ঠাকুর বাংলার সমস্ত বর্ণের মধ্যে তিনটি স,ষ,শ কে আলাদা করে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যে সয় সে রয়, যে না সয়, সে নাশ হয়।"

শেষ আপডেট: 17 November 2025 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বেই এখন যেন এক অদ্ভুত আঁধার। প্রেম-ক্ষমা-সহনশীলতা, মানুষের এই সহজাত মনোবৃত্তিগুলি কোণঠাসা হচ্ছে দ্রুত। বাড়ছে আগ্রাসী মনোভাব। যে কোনও মূল্যে পূরণ করতে হবে যে কোনও চাহিদা। তাই সহনশীলতা তলানিতে। এর থেকেই জন্ম নিচ্ছে হিংসা-বিবাদ-অশান্তি। এর থেকে কি আদৌ মুক্তি সম্ভব?
গভীর অন্ধকার থেকে সেই আলোয় ফেরার পথ দেখালেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ স্বামী একচিত্তানন্দ মহারাজ। শ্রী রামকৃষ্ণদেবের কথামৃতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, "কথামৃতের যে কোনও মনস্ক পাঠক জানেন, শ্রী শ্রী ঠাকুর বাংলার সমস্ত বর্ণের মধ্যে তিনটি স,ষ,শ কে আলাদা করে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যে সয় সে রয়, যে না সয়, সে নাশ হয়।"
তাঁর কথায়, "বর্তমান যুগের প্রেক্ষিতে এই কথাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজেদের ব্যক্তিজীবনের দিকে তাকাই, পারিবারিক জীবনের দিকে তাকাই বা রাষ্ট্রিক জীবনের দিকে তাকাই, দেখি যে এই সূত্রগুলি কোথাও লঙ্ঘিত হচ্ছে। ব্যক্তি জীবনে সহনশীলতার প্রয়োজন কেন! কারণ শারীরিক-মানসিক ও বৌদ্ধিক স্তরেও আমাদের নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। শারীরিক স্তরে নানা আধিব্যাধি রয়েছে, মানসিক স্তরেও তাকে নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বৌদ্ধিক স্তরেও বিপর্যয় আসে। এই সবই আসলে আমাদের চলার পথের অঙ্গমাত্র। একটা বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে যদি এগিয়ে চলি তাহলে কোনওকিছুই অসহনীয় বলে মনে হয় না।"
স্বামী বিবেকানন্দও যে সেই সহনশীলতার দিকেই পথ নির্দেশ করেছিলেন। স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতামালা এর জন্যই বিশিষ্ট হয়ে রয়েছে। স্বামী একচিত্তানন্দ বলেন, "১১ই সেপ্টেম্বরের ভাষণেই দেখতে পাচ্ছি, শুধুমাত্র সহনশীলতা নয় আরও এগিয়ে গিয়ে বলছেন আমরা সমস্ত ধর্মকেই সমানভাবে সত্য বলে স্বীকার করি। এটা মনে রাখলে আজকে যে জাতিতে জাতিতে, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে এত অসহনীয়তা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কারও মত মেনে নিতে পারছেন না, সেই সমস্যার অনায়াস সমাধান হতে পারে।