কার্তিকের জন্ম নিয়ে অনেক রকম কাহিনী রয়েছে পুরাণে। আর তার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জুড়ে রয়েছে ৬ সংখ্যাটি।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 November 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কার্তিকেয় থেকে কার্তিক (Kartik), এই নামেই তিনি বাঙালির ঘরে ঘরে পূজিত (Bengali God Kartik)। কার্তিক দেব সেনাপতি। তিনি মহাদেব ও পার্বতীর সন্তান, সিদ্ধিদাতা গণেশ সম্পর্কে তাঁর ভাই। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দেবতার আরাধনা করা হয় সন্তানকামনায়। নবদম্পতির ঘরে পূজিত হন তিনি, যাতে কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে শিশু। কিন্তু জানেন কি, এই সুন্দর, সুঠাম চেহারার অধিকারী দেবতার সঙ্গে ৬ সংখ্যাটির এক গভীর যোগ রয়েছে? দ্য ওয়াল - অমৃত কথা
কার্তিকের জন্ম নিয়ে অনেক রকম কাহিনী রয়েছে পুরাণে। আর তার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জুড়ে রয়েছে ৬ সংখ্যাটি। কথিত আছে, তিনি অগ্নিদেবের পুত্র। কার্তিকের ৬ মা, তাঁরা ছয় ঋষিপত্নী। আবার কোথাও বলা হয়েছে - দক্ষকন্যা এবং অগ্নিদেবের স্ত্রী স্বাহা ছয়জন ঋষিপত্নীর রূপ ধারণ করে স্বামীর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন এবং জন্ম হয় কার্তিকের।
কিন্তু এর মধ্যেও সবচেয়ে প্রচলিত যে আখ্যান, তা বলছে - ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর মিলনের তেজ অগ্নি ধারণ করতে অসমর্থ হলে তা তিনি গঙ্গায় নিক্ষেপ করতে বাধ্য হন। দেবী গঙ্গা আবার সেই তেজের প্রকোপ থেকে বাঁচতে তা হিমালয়ের পাশে এক শরবনে নিক্ষেপ করেন। সেই অসীম তেজরাশি থেকেই জন্ম কার্তিকের। ছ'জন কৃত্তিকা সেই শিশুকে স্তন্যপান করিয়ে লালনপালন করেন। পরে পার্বতী তাঁদের থেকে নিজের ছেলেকে চেয়ে নেন।
কোথাও আবার বর্ণিত আছে, ছয় মায়ের আদরে বড় হওয়ায় ষাণ্মাতুর বলেও ডাকা হয়ে থাকে কার্তিককে। কার্তিকের নাকি ছ'টি মাথাও তৈরি হয়েছিল। তা থেকেই আবার তাঁর আরেক নাম ষড়ানন। সনৎ কুমার, স্কন্দ, কুমার, সুব্রহ্মণ্যম - এমন আরও অনেক নাম আছে এই বিস্ময় বালকের।
কথিত আছে, কার্তিক কিন্তু বিবাহিত, তাঁর স্ত্রীর নাম দেবসেনা। অনেক আখ্যানেই তাঁকে ষষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর বাঙালিদের কাছে মা ষষ্ঠী শিশুদের দেবী। জন্ম থেকে ঠিক ৬টি তিথির মধ্যে কার্তিক বড় হয়ে ওঠেন, ক্রমে তিনি দেবসেনাপতি হয়েছিলেন। ৬টি বিশেষ তিথি বা দিন তাঁর দরকার হয়েছিল, বড় হয়ে ওঠার জন্য। তাই কীভাবে যেন কার্তিকের পুজোর সঙ্গে শিশুদের মঙ্গলকামনার একটি বিষয় কোনওভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। কার্তিক পুজোর সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ষষ্ঠী, শিশুদের সুরক্ষাকারী দেবী। তবে শুধু সন্তানকামনাতেই নয়, সংসারের শ্রীবৃদ্ধি, রোগবালাই থেকে দূরে থাকার জন্যও প্রার্থনা করা হয় কার্তিকের কাছে।