নাম না করেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপির বহু কর্মী এই হিংসার শিকার হয়েছেন এবং প্রাণও হারিয়েছেন। সেই সমস্ত কর্মীদের স্মরণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 6 April 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে (BJP Foundation Day) সোমবার ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেই ভাষণেই একদিকে যেমন কংগ্রেস আমলের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা শোনা গেল, তেমনই উঠে এল বিজেপির উত্থান এবং দেশজুড়ে দলের বিস্তারের কথাও। একই সঙ্গে বিধানসভা ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক হিংসার (West Bengal Post Poll Violence) কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এখানে হিংসাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ করে তোলা হয়েছে। নাম না করেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপির বহু কর্মী এই হিংসার শিকার হয়েছেন এবং প্রাণও হারিয়েছেন। সেই সমস্ত কর্মীদের স্মরণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের কর্মীদের ওপর বারবার আক্রমণ হয়েছে, কিন্তু আমরা থামিনি, পিছিয়েও যাইনি। লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।”
পাশাপাশি, কংগ্রেস আমলের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, সেই সময় দেশে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তার পরেই বিজেপির উত্থান এবং মানুষের সমর্থন পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় পর দেশে এমন একটি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে, যা বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে এবং সেই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কর্মীদের নিরন্তর পরিশ্রম।
দলের সংগঠনগত শক্তির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপির কর্মীরা দলের আদর্শকে নিজেদের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। সেই কারণেই আজ দল একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দলের ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে কর্মীদের ভূমিকার উপরই জোর দিতে চাইছেন তিনি।
একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল থেকে শুরু করে বিবাহ সংক্রান্ত একাধিক আইনি পরিবর্তন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কার্যকর করা এবং অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণ - যে সব বিষয় একসময় অসম্ভব বলে মনে করা হত, তা বাস্তবায়ন করেছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর দিকেও এগোনোর কথা জানান তিনি।
বিদেশ নীতির প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, একসময় ভারত বহু দেশের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখত, কিন্তু এখন বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান অনেকটাই বদলেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নতুন দিশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভাষণের শেষে দলের কর্মীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছরের দিকে এগোচ্ছে দল। এই পথচলা একদিকে যেমন বড় মাইলফলক, তেমনই আগামী দিনের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের অনুপ্রেরণা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার উপরও জোর দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, প্রতিষ্ঠা দিবসের এই ভাষণে অতীতের সমালোচনা, বর্তমানের সাফল্য এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য - এই তিনটিকেই সামনে রেখে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।