গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গিহানার (Pahelgam Attack) পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লির ‘সিঁদুর অভিযান’ (Operation Sindoor) এবং তার পরবর্তী চার দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (India Pakistan War) স্মৃতি এখনও টাটকা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 April 2026 14:45
দ্য ওয়া ব্যুরো: পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের (Khawaja Asif) সাম্প্রতিক এক মন্তব্য তুমুল চর্চায় উঠে এসেছে। ভারতের মাটিতে কোনও ‘অভিযান’ চললে তার প্রত্যাঘাত কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার যে হুমকি ইসলামাবাদ (Islamabad) দিয়েছে, তা নিয়ে সোমবার নদিয়ার (Nadia) বেথুয়াডহড়ির নির্বাচনী জনসভা (West Bengal Assembly Election 2026) থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর প্রশ্ন, বাংলার রাজধানীকে (Kolkata) নিয়ে এমন হুমকির পরেও কেন প্রধানমন্ত্রী মৌনব্রত পালন করছেন?
গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গিহানার (Pahelgam Attack) পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লির ‘সিঁদুর অভিযান’ (Operation Sindoor) এবং তার পরবর্তী চার দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (India Pakistan War) স্মৃতি এখনও টাটকা। এরই মাঝে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খোয়াজা আসিফ বলেন, ‘‘ভারত যদি ভবিষ্যতে কোনও মিথ্যা অজুহাতে পাকিস্তানে অভিযান চালায়, তবে আমরা তা কলকাতা (Kolkata News) পর্যন্ত নিয়ে যাব।’’ অর্থাৎ, যুদ্ধের আঁচ যে এবার সরাসরি বাংলার বুকেও আছড়ে পড়তে পারে, সেই প্রচ্ছন্ন হুমকিই দিয়ে রেখেছে ইসলামাবাদ।
সোমবার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এই ইস্যুতেই সুর চড়ান তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখায়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন কলকাতাকে আক্রমণ করার কথা বলেন, সেই কথাটা কেন প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে এক বারও বললেন না? কেন তিনি জানালেন না যে এর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে?’’
মুখ্যমন্ত্রীর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মুখ বুজে বসে আছেন কেন? তবে কি নির্বাচনের আগে আর একটা পহেলগামের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? এটা কি কেবলই লোক দেখানো ছলনা?’’ তাঁর সাফ কথা, বাংলার মানুষকে লক্ষ্য বানালে বাংলাও দিল্লিকে টার্গেট করবে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দিয়ে এই কথা কে বলিয়েছে, তার তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি মোদীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
মমতার দাবি, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও বাংলার নিরাপত্তা নিয়ে এমন বড় হুমকির পরেও কেন্দ্রের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় হিসেবে আমরা এই অপমান মানব না। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাকে নিশানা করতে পারেন, কিন্তু ভিনদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন বাংলাকে টার্গেট করেন, তখন কেন আপনি চুপ?’’