বিজেপি রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর শমীকের ভাষণের মধ্যেই শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক লড়াই, ভারতীয় জনসঙ্ঘের ইতিহাসের পাশাপাশি উঠে এসেছিল তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার নাম।

নরেন্দ্র মোদীকে শিবেন্দুশেখর রায়ের ছবি উপহার দিলেন শমীক-সুকান্ত
শেষ আপডেট: 17 January 2026 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) তখন সবে বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। কুর্সিতে বসেই নামের পাশে কোনও দলীয় পরিচয় না জুড়ে, ইতিহাসের ন্যায়বিচার চেয়ে শিবেন্দুশেখর রায়ের (Shubendu Sekhar Roy) অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। শমীকের ভাষণের মধ্যেই শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক লড়াই, ভারতীয় জনসঙ্ঘের ইতিহাসের পাশাপাশি উঠে এসেছিল তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার নাম।
শনিবাসরীয় দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাতেও উপহার হিসেবে ফিরে এলেন শিবেন্দুশেখর। মালদহের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁরই একটি বড় বাঁধানো ছবি উপহার দিয়েছেন বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। যিনি স্বাধীনতার আগে বিশিষ্ট আইনজীবী হলেও মালদহ জেলায় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
দু’শো বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ থেকে দেশ মুক্ত হল, সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গেই বয়ে এসেছিল কাঁটাতারের যন্ত্রণা, বিভাজনের ক্ষত। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেনের কলমের এক আঁচড়ে তৈরি হয়েছিল তিনটি ভূখণ্ড—স্বাধীন ভারত, পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান (অধুনা পাকিস্তান)। সেই বণ্টনের সময় কোথা থেকে কী বদলে গেল, তা অনেক ক্ষেত্রেই চোখে পড়েনি ব্রিটিশ শাসকদের। কার জীবনে এল স্বাধীনতা, আর কারা বুঝতেই পারলেন না তাঁরা আদৌ স্বাধীন হলেন কি না।
১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট দেশ স্বাধীন হলেও সব জায়গায় স্বাধীনতার আলো পৌঁছয়নি সেদিন। কোথাও তখনও উড়ছিল পাকিস্তানের পতাকা। সীমান্তের মোটা কালো দাগ ততক্ষণে ভারত রাষ্ট্রের গায়ে বসে গিয়েছে। তিন দিন পরে, ১৮ অগস্টের ভোরে আসে সেই অন্যরকম স্বাধীনতার সকাল। নো ম্যানস ল্যান্ড সেদিন স্বাধীনতাকে স্বাগত জানিয়েছিল—যে স্বাধীনতা পরে রক্তক্ষয়ী স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা—এই চার জেলার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে সীমান্তের ইতিহাস। সীমান্ত বলতে কেবল কাঁটাতার। সেই কাঁটাতারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ব্রিটিশ শাসকদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। উদ্দেশ্য ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ভারতের এ পারে রাখা এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেওয়া। কিন্তু সেই হিসেবনিকেশে মতভেদ তৈরি হয় প্রশাসনের অন্দরে। শেষমেশ রাতারাতি মানচিত্রে কলম চালিয়ে সীমান্ত টেনে দেওয়া হয় এই চারটি জেলার গা ঘেঁষে। সামান্য এ দিক-ও দিক হলেই ভিনদেশ।
‘৪৭-এর ১৮ অগস্টের মালদহ ছিল অন্য ছবি। পাকিস্তানি সেনার রুটমার্চ চলছিল এলাকায়। ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ হিন্দু-মুসলমান তখন পরস্পরের প্রতি সন্দেহপ্রবণ। বিশ্বাসের রং ফিকে, সম্প্রীতির বন্ধন আলগা। সেই সময়েই মালদহকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। আর সেই সময়ই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন শিবেন্দুশেখর রায়।
আর এই শিবেন্দুশেখরের স্মৃতিই উঠে আসে মালদহের সভামঞ্চে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণেও 'সুখেন্দু জনকের' নাম উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শুরুটাই হয় এই ভাবে, "আমি সর্বপ্রথম মালদহের ‘মহান সুপুত্র’ শিবেন্দুশেখর রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে চাই— যাঁর উদ্যোগ ও অবদানের ফলেই মালদহের স্বতন্ত্র পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।"