কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ব্রিগেডে তাঁর সভার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে চাপ তৈরি হয়েছে। কোচবিহারের সভায় উপস্থিত মানুষের সাড়া দেখেও তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 7 April 2026 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে সরগরম বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে টানা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিজেপি সূত্রে খবর, একদিনেই তিনটি জনসভা করার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর।
বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেই সূচি অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল জঙ্গিপুর, কাটোয়া এবং বালুরঘাটে পরপর তিনটি সভা করতে পারেন তিনি। এরপর সেদিন রাতেই শিলিগুড়িতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
পরের দিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল শিলিগুড়িতে একটি রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে টানা দু’দিন বাংলার মাটিতেই নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন তিনি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’।
উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ব্রিগেডে তাঁর সভার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে চাপ তৈরি হয়েছে। কোচবিহারের সভায় উপস্থিত মানুষের সাড়া দেখেও তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক মদতে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের আশ্বাসও দেন তিনি।
ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘনঘন সফর যে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে, তা বলাই যায়।