মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পর এবার মতুয়া আবেগে শান দিতে রানাঘাটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২০ ডিসেম্বর রানাঘাটে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা।

মতুয়া আবেগে শান দিতে রানাঘাটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 December 2025 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পর এবার মতুয়া আবেগে শান দিতে রানাঘাটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২০ ডিসেম্বর রানাঘাটে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা।
মোদীর সভার জন্য শুক্রবার প্রস্তুতি বৈঠক সারল বিজেপি। শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরে একটি বেসরকারি লজে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সুনীল বনসল, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ রানাঘাট লোকসভার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সব বিজেপি বিধায়করা।
এর আগে এবছরই মে থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে এরাজ্যে তিন তিনটি সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম সভাটি হয়েছিল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে। দ্বিতীয়টি দুর্গাপুরে। তৃতীয়টি হয় কলকাতার কাছাকছি দমদমে। তখনই শোনা গিয়েছিল ডিসেম্বর মাসের কোনও এক সময়ে কৃষ্ণনগর বা রানাঘাটের কোনও এক জায়গায় প্রধানমন্ত্রী জনসভা করবেন।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, রানাঘাটেই হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর সভা। প্রসঙ্গত এর আগে যখন মোদী সভা করেন, সেই সময় রাজ্যে SIR আবহ ছিলনা, আর এখন যখন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্ব চলমান এবং সেই SIR নিয়ে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন রানাঘাটে প্রধানমন্ত্রীর সভা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন বা ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন, রাজ্যের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বেশ ভাল ফল করেছিল বিজেপি। তবে চলতি SIR আবহে নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের একটা বড় অংশের মধ্যে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব কাজ করছে। ইতিমধ্যেই মতুয়াদের মধ্যে একটা অংশ যারা মূলতঃ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামী বা তৃণমূল পন্থী, তারা এই SIR পর্বকেই মতুয়া বিরোধী বলে দাবি করছেন।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যা বিজেপির কাছে অশনিসংকেত হতে পারে, বিশেষ করে যে মতুয়া সম্প্রদায় শেষ দুই নির্বাচনে অনেকটাই তাদের পাশে থেকেছে, সেই ভোট সরে গেলে বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন অনেকটাই ব্যাঘাত প্রাপ্ত হবে বলে মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।
বৃহস্পতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষ্ণনগরে সভা করেছেন। সেখানে মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলায় এনআরসি হবে না, ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। মনে রাখবেন, আমি ভোট চাইতে আসিনি। নিশ্চিন্তে থাকুন, কাউকে তাড়াতে দেব না। সবাইকে স-সম্মানেই রক্ষা করব।” কৃষ্ণনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য যে কাদেরকে উদ্দেশ্য করে সেটা সহজেই অনুমেয়।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডের গীতাপাঠের ধাঁচে (বিজেপির অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী) এবার সেখানে লক্ষ কণ্ঠের হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক, অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসা পরিষদ। যার নেত্রী তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। স্বভাবতই, স্পষ্ট আসন্ন ভোটে দলের পতাকাতলে মতুয়াদের আরও সঙ্ঘদ্ধ করতে মরিয়া শাসকদল।
এমন আবহে ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রানাঘাটের সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য ঠিক কোন বার্তা দেন সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল, বিশেষত মতুয়া সম্প্রদায়।