আদালতে এদিন বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী আদালতকে জানান, মুর্শিদাবাদের ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলাগুলির জন্য আগে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বর্তমান মামলাগুলি কীভাবে এই বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 January 2026 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2021) পর মুর্শিদাবাদে ঘটে যাওয়া ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা (Murshidabad Post Poll Violence) এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই ধরনের মামলা তাঁদের বেঞ্চে শোনা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আপাতত এক সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতুবি রেখে দু’পক্ষের আইনজীবীদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি মামলা শুনানির তালিকায় ওঠে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের ভোট-পরবর্তী হিংসায় (Murshidabad Post Poll Violence) ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাও ছিল। মামলাকারী ও আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন জানালে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যে মামলা আগে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় হয়েছে, তা নতুন কোনও নির্দেশ ছাড়া কীভাবে ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল?
আদালতে এদিন বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী আদালতকে জানান, মুর্শিদাবাদের ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলাগুলির জন্য আগে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বর্তমান মামলাগুলি কীভাবে এই বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হল।
মামলাকারীর তরফে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল জানান, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই কনটেম্পট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিচারপতিরা জানতে চান, বর্তমান মামলাগুলির কোনওটি কি এখনও পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে? যদি না থাকে, তা হলে কোনও নোটিফিকেশন ছাড়া এই বেঞ্চ সেই মামলার শুনানি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
শেষ পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষের আইনজীবীদের আগের সমস্ত নির্দেশ ও রায় খতিয়ে দেখে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, মামলাগুলি ডিভিশন বেঞ্চে শোনা যাবে নাকি নতুন করে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের একাধিক জেলায়, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে, ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ ওঠে। খুন, ধর্ষণ, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুঠপাট এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনাগুলির তদন্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যা পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে বহু ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্ত ও বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
এই মামলাগুলি এক সময় কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে চলেছিল, যেখানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল-সহ মোট পাঁচ বিচারপতি ছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁরা কেউই আর হাইকোর্টে নেই। সেই কারণেই ফের বেঞ্চ সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠে এল, যা আগামী সপ্তাহের শুনানিতে আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।