রাজ্য বিধানসভায় সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র এবং কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান (Abdul Mannan) বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একের পর এক বিধায়ক ভাঙানো হয়ে এসেছে।

আব্দুল মান্নান, মুকুল রায় এবং বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 13 November 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র এবং কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান (Abdul Mannan) বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একের পর এক বিধায়ক ভাঙানো হয়ে এসেছে। চেষ্টা চরিত্র করেও তাঁরা বা তাঁদের দল এই খেলা বন্ধ করতে পারেনি। তবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিরোধী দলনেতা হয়ে করে দেখিয়েছেন। তাঁরই করা মামলায় মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। যা বঙ্গ রাজনীতিতে নজিরবিহীন। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মান্নান?
দ্য ওয়ালের তরফে কংগ্রেস নেতাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "হাইকোর্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা দলত্যাগ করে, পদ ছাড়ে না, সেই সব লোকেদের প্রতি একটা চরম বার্তা দিল আদালত। আদালত দেরি কোর্টে পারে কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না। আজকের আদালতের রায়কে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। আমি আগে বারবার দেখেছি শাসক দলের স্পিকাররা দলত্যাগীদের নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগায়। গোটা পৃথিবীর লোক দেখছে দলত্যাগীরা মিটিং, মিছিলে যাচ্ছে, অথচ বলে কোনও প্রমাণ নেই।"
মান্নান বলেন, "এর আগেও আমি গিয়েছিলাম আদালতে। তখন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সাহায্য করেছিলেন। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। এক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশে স্পিকারদের কাছেও একটা বার্তা গেল। এই যে মানুষকে বোকা বানানোর একটা ব্যাপার, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের, সেটা একটা সারা ভারতবর্ষে বার্তা গেল।"
এদিকে, রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee) বলেছেন, "আমি যতদূর জানি, অধ্যক্ষের রুলিংয়ে হস্তক্ষেপ করা যায় না। সংবিধানের প্রোটেকশন রয়েছে। তা সত্ত্বেও আদালত কী দেখে এই নির্দেশ দিল, রায়ের কপি না দেখে বলতে পারব না।"
তবে কি সেক্ষেত্রে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মান্নান বলেন, "সে কেউ চাইলে যেতেই পারে। কিন্তু এটা নীতি-আদর্শের বিষয়। তবে দলত্যাগ আইন তো বৈধ। আমি লোকসভা, বিধানসভা দুই ক্ষেত্রেই স্পিকারদের বলব, যারা সব দেখেও কিছুই দেখেন না, প্রশ্রয় দেন, তাঁদের এবার নীতি-আদর্শ ফিরবে, এই আশা করব।"
মান্নানের হয়ে আদালতে যাওয়া বিকাশরঞ্জকেও ফোনে ধরা হয়। সাংসদ তথা আইনজীবী দ্য ওয়ালকে জানালেন, "এটাই হওয়া উচিত। কলকাতা হাইকোর্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাঁরা এই বিধায়ক পদ খারিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন দল বদলের জন্য, সেই স্পিকার তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন না। সাম্প্রতিককালের লজ্জাজনক ব্যাপার বিধানসভার অধ্যক্ষ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বলছেন, তুমি আমাদের দলে যোগ দিন। তাহলে অধ্যক্ষের আসন যিনি অলঙ্কৃত করছেন, তিনি নিজেই দলবদলে উৎসাহ দেন তাহলে বুঝতে হবে এই স্পিকার তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন না। তিনি ব্যর্থ বলেই হাইকোর্টকে এর মধ্যে ঢুকতে হয়েছিল। যতই অধ্যক্ষ রুলিংয়ে হস্তক্ষেপের কথা বলুন, বিচারব্যবস্থার উপরে কেউ নন।"
বিকাশ আরও বলেন, "বামপন্থীরা যখন বিধানসভায় ছিল, বিভিন্ন বিধায়কদের দলত্যাগ করাচ্ছিলেন, তখন আদালতে যাওয়া হয়েছিল। তখন অধ্যক্ষের উপর দায়িত্ব সেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধ্যক্ষরা কাজ করেননি। তাঁদের যে দায়িত্ববোধ সেটা অনেক রাজ্যের স্পিকারই সেটা মানেন না। কাজেই আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।"