দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশি তল্লাশি বানচাল করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হল টিয়াপাখি! ব্রাজ়িলের পিয়াউই-তে ঘটা আশ্চর্য এই ঘটনাটি জেনে নেটিজেনরা রাগবেন না হাসবেন ভেবে পাচ্ছেন না। জানা গিয়েছে, ড্রাগ পাচারের অভিযোগে দু'জন সন্দেহভাজনকে খুঁজতে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। তাদের দেখে আচমকা পোষা টিয়া চেঁচিয়ে ওঠে, 'মামায় পোলিশিয়া!' ব্রাজ়িলিান এই শব্দের অর্থ, 'মা, পুলিশ!'
ব্যস, এই শুনেই সতর্ক হয়ে গিয়ে পগারপাড় দুই ড্রাগ পেডলার! পুলিশ আর কী করে, বাধ্য হয়ে সেই 'অপরাধী' টিয়াপাখিকে ধরে এনে জেলে বন্দি করে রেখেছে।
এক পুলিশ কর্তার কথায়, "ওকে নিশ্চয় এভাবেই ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল, যাতে ঘরে পুলিশ ঢুকলেই ও চেঁচিয়ে ওঠে। তাই আমরা যখনই দরজা দিয়ে ঢুকে ওর মুখের সামনে পড়লাম, অবিকল মানুষের মতো গলায় চেঁচিয়ে উঠল! মা বলে ডাকল অভিযুক্ত মহিলাকে! ওকে নিশ্চয় বহু দিন ধরে এমনটা শেখানো হয়েছে। হতে পারে, আগেও এমনটা ঘটেছে ওর সঙ্গে। আমরা কিছু বোঝার আগেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাল অভিযুক্তেরা।"
তবে সেই পালানো অবশ্য সফল হয়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে বাড়ি থেকে পালানো একটি লোক এবং এক কিশোরীকে। তারা দু'জনে মিলেই চালাত বেআইনি ড্রাগের কারবার। বাড়িটি থেকে ছোটো ছোটো ব্যাগে ভর্তি মাদকও উদ্ধার হয়েছে। এই গোটা পর্বে অবশ্য শান্ত ভাবে চুপচাপ বসেছিল টিয়া-বাবাজি। এর পরে, খাঁচায় করে থানায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত, আর একটিও কথা বলেনি সে।

এর পরে আদালতে মামলা উঠলে অভিযুক্ত পক্ষের উকিল পুলিশের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন, এভাবে পাখিটিকে বন্দি করে রাখায় পশু সুরক্ষা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে। এমন প্রশ্নও ওঠে, তল্লাশির সময়ে যে কথা বলার জন্য তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছে, সে তার পর থেকে আর কোনও কথা না বলে কী করে আছে।
এর মধ্য়ে পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরাও পৌঁছে যান থানায়। টিয়াপাখির মুক্তির দাবি করেন তাঁরা। থানায় এসে ভয় পেয়ে যাওয়ার কারণে সে কথা বলছে না, এমন দাবিও করে। শেষমেশ বুধবার পাখিটিকে স্থানীয় একটি চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। জানানো হয়, চিড়িয়াখানায় তাকে ওড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ পাখিকে বন্দি করে রাখা সে দেশে অপরাধ।