
শেষ আপডেট: 16 March 2023 06:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় রোজই দেশের কোথাও না কোথাও রাজনীতিকদের (politicians) ডেরায় হানা দিয়ে থাকে এনফোর্সমেন্টে ডাইরেক্টরেট (ED)। তাঁর সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে, এমন বার্তা প্রায়ই দিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বিরোধীরাই এই তালিকায় সিংহভাগ, এমন আভাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
যদিও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পরিসংখ্যান বলছে, রাজনীতিকেরা মোটেও তাদের প্রধান টার্গেট নয়। কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা মূলত বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে থাকে। সেই আইন কার্যকর হয়েছে ২০০৫ সালে। ইডি জানিয়েছে, সেই আইনে অভিযুক্তদের মাত্র তিন শতাংশ হলেন রাজনীতিক।
বিরোধীরা (opposition leaders) অনেকদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগ মূলত বিরোধী নেতা-নেত্রীদের টার্গেট করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মামলা বিশ্লেষণ করেও দেখা যাচ্ছে বিরোধীদের অভিযোগ মিথ্যা নয়। কিন্তু সংস্থাগুলি সরাসরি এই ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ।
বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে বুধবার। কংগ্রেস-সহ ১৮টি বিরোধী দল বুধবার ইডির অধিকর্তাকে লেখা চিঠিতে আদানিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ উল্লেখ করে বলেছে, তদন্তকারী সংস্থাটি যেন তাদের কর্তব্য থেকে সরে না যায়। চিঠির বক্তব্যকে অভিযোগ হিসাবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করার জন্য ইডির অধিকর্তাকে লেখা চিঠিতে বলেছেন বিরোধী নেতারা। ইডির বিরুদ্ধে বিরোধীদের নিশানা করার অভিযোগের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বিরোধীরা ‘মোদীর ইডি’, ‘মোদীর সিবিআই’ বলে কটাক্ষ করে থাকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে।
তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, বুধবার রাতেই ইডি সূত্রে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়, তারা মোটেই রাজনীতিকদের নিশানা করেনি। ইডির মামলায় অভিযুক্তদের মাত্র ২.৯৮ বা প্রায় তিন শতাংশ হলেন রাজনীতিক। তবে অভিযুক্ত রাজনীতিকেরা সংখ্যায় কত, সে তথ্য আবার চেপে গিয়েছে ইডি।
এই তিন শতাংশ রাজনীতিকের কতজন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রী, শাসক দলেরই বা কতজন আছেন, সেই প্রশ্নের জবাবও তারা সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছে। যদিও ইডির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ থেকে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই তদন্তকারী সংস্থাটির নিশানায় থাকা রাজনীতিকের ৯৬ শতাংশই বিরোধী দলের নেতা-নেত্রী। ইডি জানিয়েছে, বেআইনি পথে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংক্রান্ত ১৭৬টি মামলায় রাজনীতিকদের নাম আছে।
বিরোধীদের নিশানা করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইডির এক পদস্থ কর্তার যুক্তি, এই তদন্তকারী সংস্থা যেহেতু আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে থাকে তাই সিবিআই, আয়করের মামলাতেও তাদের যুক্ত হতে হয়। সেই সুবাদে রাজনীতিকদের নাম ইডির মামলায় যুক্ত হয়ে যায়। দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে ওই ইডি কর্তা বলেন, বাংলার শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির মূল মামলা সিবিআইয়ের। গরু ও কয়লা পাচারের মামলাও তাই। দিল্লির মদকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করে প্রথমে সিবিআই। এই সব মামলাতেই ইডিকে তদন্তে নামতে হয়েছে বেআইনি পথে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকায়।
তদন্তে তারা যথেষ্ট পারদর্শী এবং আন্তরিক বলেও দাবি করেছে ইডি। পরিসংখ্যান দিয়ে তারা বলেছে, তাদের মামলায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সাজা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির মধ্যে তারাই এই ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে। প্রসঙ্গত, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ এবং সিবিআইয়ের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৯৪ শতাংশ এবং ৬৮ শতাংশ।
ইডি জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে এ বছরের ৩১ জানুযারি পর্যন্ত প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং আইনে তারা ৫৯০৬টি মামলা দায়ের করেছে। এরমধ্যে ১১৪২টি বা ১৯ শতাংশ মামলায় চার্জশিট পেশ করা গিয়েছে। এই আইনে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আছে ইডির। ওই সংস্থার দাবি, এই বাপারে একশ শতাংশ ক্ষেত্রেই আদালত তাদের পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে।
১০০ বারের বেশি ছুরির কোপ শরীরে, ঝোপ থেকে ২০ বছরের যুবকের দেহ উদ্ধার বিহারে