কোচবিহারের সভা থেকে সরাসরি মোদীকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কটাক্ষ, “যিনি ‘বন্দে মাতরম্’ লিখেছেন, তাঁকেই সম্মান দিতে জানেন না! আপনাদের তো নাকখত দেওয়া উচিত।”

শেষ আপডেট: 9 December 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে (Winter Parliament session) দাঁড়িয়ে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে (Bankim Chandra Chatterjee) ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মুহূর্তেই তা ঘিরে তোলপাড় সংসদভবন। ওই প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার কোচবিহারের সভা (Cooch Behar) থেকে সরাসরি মোদীকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কটাক্ষ, “যিনি ‘বন্দে মাতরম্’ (Vante Mataram) লিখেছেন, তাঁকেই সম্মান দিতে জানেন না! বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা! আপনাদের তো নাকখত দেওয়া উচিত! তাতেও ক্ষমা হবে না। ”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা! । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এইটুকু সম্মান দিলেন না! আপনাদের তো মাথা নিচু করে নাকখত দেওয়া উচিত জনগণের কাছে। তাতেও ক্ষমা হবে না। দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাসকে অসম্মান করেছেন।’
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক ঝাঁঝ— বিজেপি শুধু রাজনীতিতে নয়, বাংলার মনীষীদের প্রতি ধারাবাহিক অসম্মান দেখিয়েই এগোতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রামমোহনকে দেশপ্রেমী মানেন না, ক্ষুদিরামকে সন্ত্রাসবাদী বলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন… আর নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার খেলা! ভোটের পর আবার শীতলকুচিতে গুলি, আর অসম থেকে বাংলার মানুষকে নোটিস পাঠান। লজ্জা করে না?”
রাজ্যের শাসকদলের দাবি, এ প্রথম নয়। বাংলার নবজাগরণের পথিকৃতদের নিয়ে বিজেপির ভুলভ্রান্তি ও ‘দক্ষিণভারতীয়-নেতৃত্বাধীন অজ্ঞেয় মনোভাব’ বহুবার সামনে এসেছে। কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান ভুল বলেন জে.পি. নাড্ডা, কখনও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা। এমনকি অমিত শাহের রোডশো চলাকালীন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনাকেও তৃণমূল আজও মনে করিয়ে দেয় বিজেপিকে।
লোকসভায় সোমবারের ঘটনাটিও কম নাটকীয় নয়। ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মোদী বলেন— “বঙ্কিমদা”। মুহূর্তে ক্ষুব্ধ বিরোধী বেঞ্চ। সৌগত রায় দাঁড়িয়ে আপত্তি তুলতেই মোদী নিজের বক্তব্য থামান। বলেন, “ঠিক আছে, বঙ্কিমবাবু বলছি। আপনার অনুভূতিকে সম্মান জানাই।”
তার পরেই খানিক রসিকতার সুর যোগ করে তাঁর প্রশ্ন, “তবে আপনাকে দাদা বলে ডাকতে পারি তো? না কি তাতেও আপত্তি আছে?” কিন্তু তৃণমূলের কাছে এই রসিকতা মধুর নয়। তাদের দাবি, বাংলার মহাপুরুষদের প্রতি বিজেপির এই ‘অসচেতনতা’ আসলে মানসিকতার প্রতিফলন। মমতার ভাষায়,“বিজেপি মনীষীদের কোনও দিন সম্মান দেয়নি, আজও দেয় না। বাংলাকে না চিনেই বাংলার ‘হৃদয়’ নিয়ে রাজনীতি করতে আসে।”