রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে নির্বাচনে কী হতে চলেছে বিজেপির স্থির লক্ষ্য, তারও আভাস পাওয়া যাবে এই সভাতেই।

শেষ আপডেট: 18 July 2025 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৯ মে-এর পর দু’মাসের মধ্যেই আজ ফের বাংলার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কর্মসূচির কেন্দ্রে দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়াম, যেখানে রয়েছে তাঁর দু’টি পরপর অনুষ্ঠান - প্রথমে প্রশাসনিক, পরে রাজনৈতিক।
আজ দুপুর ২টো ৩৫ নাগাদ অন্ডাল বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর জোড়া সভা এবং বঙ্গে তিনি ঘোষণা করতে চলেছেন ৫৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প।
প্রথমে, আজকের সরকারি সভায় নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। মূল প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে - বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার জন্য ‘নগর গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প’-এর শিলান্যাস, দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৩২ কিমি অংশের উদ্বোধন। রয়েছে পুরুলিয়া-কোটশিলা ৩৬ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইনের উদ্বোধন, ‘সেতু ভারতম’ প্রকল্পে তোপসি ও পাণ্ডবেশ্বর — এই দুই জায়গায় নির্মিত দু’টি রোড ওভার ব্রিজের উদ্বোধনও থাকছে তালিকায়।
এছাড়াও পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে দুর্গাপুর ইস্পাত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র - এই দুটি প্রকল্পে ‘ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজ়েশন’ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এই সমস্ত প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে গ্যাস সংযোগ, পরিবেশ সচেতন বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রেল-সড়ক পরিকাঠামোয় বড়সড় অগ্রগতি ঘটবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র।
সরকারি কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই, দুপুর পৌনে ৪টে থেকে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর তথা ভারতের বিজেপি নেতৃত্বের রাজনৈতিক জনসভা। প্রায় ৪৫ মিনিটের এই সভা ঘিরে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। দিল্লির ইঙ্গিত মেনেই রাজ্য নেতারা প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যাপক জনসমাগমের জন্য।
বঙ্গসফর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকালই বাংলাতে পোস্টও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা একজন বিজেপি নেতা হিসেবে বঙ্গের শাসক দলের দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিতে চলেছেন তা একপ্রকার স্পষ্ট। নির্বাচনেই বা কী হতে চলেছে বিজেপির স্থির লক্ষ্য, তারও আভাস পাওয়া যাবে এই সভাতেই, এমনটাই মত তাঁদের।
এই বছর প্রথমে ২৯ মে আলিপুরদুয়ারে যা কিনা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, সেখানে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, এই দুর্গাপুরেই তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে লোকসভা ছিল বিজেপির শক্ত হাতে।
প্রসঙ্গত শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের বিজেপি সভাপতি হয়ে আসার পর এই প্রথম এতবড় সভা হতে চলেছে বঙ্গে। কী ভূমিকা থাকবে তাঁর, তাও বিশেষ নজরে রয়েছে সকলের। শমীক ভট্টাচার্য তো বটেই, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও গতকালই সরেজমিনে দেখে গিয়েছেন সভাতস্থলের প্রস্তুতি। আজ আসতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। রাজ্যে বিলি হয়েছে আমন্ত্রণ কার্ডও। পুজো দেওয়া হচ্ছে কালী মন্দিরে।
সব মিলিয়ে যেন উৎসবের সাজে মেতেছে গোটা দুর্গাপুর, এমনটাই বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।