
শেষ আপডেট: 7 March 2024 19:22
সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, বারাসত
লোকসভার ভরা বাজারে রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। বললেন, "যতবার আমি হাতজোড় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলি আমাকে ছেড়ে দিন, এটা আমার কাজ নয়, আমি এই যুদ্ধের সেপাই নই, কিন্তু কেন জানি না উনি আমাকে ছাড়েন না। তবে এবার আমি কথা দিচ্ছি আর নয়, আমি এবার ছাড়ব। আমি আমেরিকায় মেয়ের কাছে গিয়ে বসে থাকব। আসবই না এখানে।"
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন চিরঞ্জিত। সেখানেই তিনি রাজনীতি ছাড়তে চেয়ে রীতিমতো আর্তি জানালেন। তবে এ কথাও আবার বললেন, বারাসতকে ভুলে থাকতে পারেন না তিনি। এখানে মানুষের ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হন।
চিরঞ্জিতের মুখে বারাসত আবেগ শুনে ততক্ষণে করতালিতে ফেটে পড়ছে হল। তবে, সত্যি কি তিনি রাজনীতি ছাড়তে চান, না কি এ নিছকই কথার কথা, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। আসলে বিধায়ক তে অভিনেতাও। রসবোধ আর হেঁয়ালি যে সহজাত। এই যেমন দিন কয়েক আগে এমনই হেঁয়ালি শোনা গিয়েছিল টলিউডের অভিনেত্রী সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর মুখে। সেদিন অবশ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসে রাজনীতি ছাড়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন মিমি । বলেছিলেন, "আমি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। কিন্তু তিনি তা এখনও গ্রহণ করেননি।" মিমি এও জানান, তিনি প্রার্থী হতে চান না। অভিনেত্রীর কথায়, বিশেষ কারও বিরুদ্ধেই তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করেন, তাহলে কী করবেন? দ্য ওয়াল-এর এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ''তাহলে ওই মাছ-ভাত খেতে হবে।''
রাজনীতি ছাড়তে এলেও মুখ্যমন্ত্রী চাইলে যে মাছ-ভাত খাবেন সেটা জানিয়েই সেদিন বিধানসভা ছেড়েছিলেন মিমি। এদিন চিরঞ্জিতও হাঁটলেন সেই পথেই। বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, সাধিলেই খাই। নিজেদের গুরুত্ব বুঝতে বর্তমানে এটাই কি তবে সেরা পথ!