৪ অক্টোবরের বিধ্বংসী বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ৩২ জন। সেই প্রাকৃতিক তাণ্ডবেরই এক করুণ স্মৃতি ছিল টানাটানি সেতুর ভাঙন। দেড় মাসের মধ্যেই সেই ক্ষত সারিয়ে পথকে ফের সরগরম করে তুলল জেলা প্রশাসন

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাঠিয়া নদীর বন্যায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যোগাযোগের একমাত্র ভরসা—নাগরাকাটার ‘টানাটানি’ সেতু (Nagrakata Bridge)। ৪ অক্টোবরের সেই প্রবল রাতে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলে ফুলেফেঁপে ওঠে নদী, তছনছ হয়ে যায় গ্রাম, রাস্তা, সেতু। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছাড়টন্ডু, খয়েরবাড়ি-সহ বামনডাঙার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর ওপর দিয়ে ট্র্যাক্টর চালিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হয়েছিল প্রশাসনকে।
কিন্তু মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই সেই ভগ্নদশা সেতুই এখন ফের সচল (Reopens for traffic, North Bengal)। রাতদিন টানা কাজ করে সেতুটি মেরামত করে জনসাধারণের জন্য খুলে দিল জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন (Jalpaiguri Administration)। ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপ্রোচ রোড, উধাও হয়ে যাওয়া সেতুর একাংশ—সবই নতুন করে দাঁড় করানো হয়েছে।
জেলাশাসক শামা পারভিন জানান, “৪ অক্টোবরের বন্যায় সেতুর একপাশ ও অ্যাপ্রোচ রোড ভেসে যায়। সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বামনডাঙা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পরিষদ ও পূর্ত দফতর দ্রুত কাজ শুরু করে। এক থেকে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি আবার চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিদর্শনে যাওয়ার আগেই তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী লোহার সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছেছিলেন তিনি বন্যাকবলিত গ্রামে। তাঁর সফরের পরই পূর্ণমাত্রায় শুরু হয় সেতু সংস্কারের কাজ। আর দেড় মাসের মধ্যেই ৪০ মিটার অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি, সেতুর কমজোরি অংশ শক্তকরণ, আর নিরাপত্তার জন্য ৮টি সোলার লাইট বসিয়ে সেতুকে নতুন রূপ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের জীবনে এই সেতুই ছিল শিরায়-শিরায় জুড়ে থাকা যোগাযোগের শ্বাস। ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসনিক কর্মীরা ট্র্যাক্টরে করে নদী পার হয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। ফলে এত দ্রুত সেতু সংস্কার—এ যেন তাঁদের জন্য স্বস্তির শ্বাস।
প্রশাসন সূত্রের দাবি, এক কোটিরও বেশি ব্যয়ে রাতদিন কাজ করেই সেতুটি ফের সচল করা হয়েছে। সেতু খুলতেই উচ্ছ্বাস স্পষ্ট বামনডাঙায়। যাতায়াত শুরু হওয়ায় স্বস্তির হাওয়া বইছে গোটা নাগরাকাটায়।
উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবরের বিধ্বংসী বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ৩২ জন। সেই প্রাকৃতিক তাণ্ডবেরই এক করুণ স্মৃতি ছিল টানাটানি সেতুর ভাঙন। দেড় মাসের মধ্যেই সেই ক্ষত সারিয়ে পথকে ফের সরগরম করে তুলল জেলা প্রশাসন।