কারখানার মালিক লক্ষণ বর্মা ও তার ছেলে কার্তিক বর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার হাওড়া আদালতে তোলা হয় দুজনকে।

শেষ আপডেট: 27 October 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: কারখানার ভিতর এক নাবালক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল সাঁকরাইলে। বানুপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের শীতলাতলা এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করত ওই কিশোর। জানা গেছে, চা -জল দিত সে। কিন্তু রবিবার মিস্ত্রি না আসায় তাকেই জোর করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেশিনে। তারপরেই দুর্ঘটনা।
রবিবার বিকেলে ছাট লোহার ওই কারখানায় কাজ করার সময় মেশিন থেকে ছুটে আসা লোহার টুকরোয় গলা কেটে যায় বছর ১৪র গোপাল দাসের। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। কারখানার মালিক লক্ষণ বর্মা ও তার ছেলে কার্তিক বর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার হাওড়া আদালতে তোলা হয় দুজনকে।
ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বানুপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানান, পুজোর ছুটি শেষে বুধবার থেকে সমস্ত দফতর খুললেই এলাকায় থাকা কারখানাগুলিকে শিশু শ্রমিক না রাখার জন্য কড়া নোটিস পাঠানো হবে।
পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির সত্যেন্দ্র যাদবের অভিযোগ, “এলাকায় হিন্দি মাধ্যম স্কুলের অভাব রয়েছে। তারউপর অভিভাবকদের কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। সেই কারণেই ছোটবেলা থেকে শিশুরা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। তৃণমূল প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই।” তবে উপপ্রধান সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এলাকায় হিন্দি মাধ্যম স্কুল রয়েছে, পঞ্চায়েত শিশু শ্রম রোধে আগেই সতর্কতা জারি করেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এলাকাতেই মৃত গোপাল দাস দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে থাকত। এবং ওই কারখানায় চা-জল আনা নেওয়া করত। অভিযোগ, রবিবার মূল কর্মী না আসায় মালিক তাকে জোর করে বিপজ্জনক মেশিন চালাতে বলেন। তাতেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় তুমুল আলোড়ন পড়ে এলাকায়।