খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 October 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার এসআইআর (SIR)-এর দিন ঘোষণা করে দিয়েছে কমিশন। কাল অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। কাজেই, কথা মতো এখন থেকে যাবতীয় ক্ষমতা থাকবে নির্বাচন কমিশনের (EC) হাতেই। কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এসআইআর (SIR West Bengal) প্রক্রিয়ায় যুক্ত কোনও কর্মী-আধিকারিককে বদলি করা যাবে না (West Bengal SIR News Today)। তাছাড়া যখন এসআইআর চলবে, সেই পর্বে বিএলও-দের স্বস্তি দিতেও তৎপর হয়েছিল প্রশাসন।
এদিন নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, কমিশন সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বও সরকারের। তিনি বলেন, "ভোটপ্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগে বাধ্য সরকার। আশা করি পশ্চিমবঙ্গের সরকারও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে।"
জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, "একজনের নাম দুই জায়গায় থাকলে তা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। আজ রাত ১২টা থেকেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেওয়া হবে।"
বস্তুত, মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ৭ ফেব্রুয়ারি। তখনই বোঝা যাবে নাম থাকল না কাটা গেল।
কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাত, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান নিকোবর, এই ১২ রাজ্যে ৫১ কোটি ভোটারের তালিকার এসআইআর হবে। যে সব রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন কর্মীরা।
জাতীয় নির্বাচনের কথায়, ভোটারদের ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হতে হবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকতে হবে এবং কোনও আইনে ভোট দেওয়ার অধিকার বাতিল হলে চলবে না।
বাংলায় প্রায় সাত মাস পর বিধানসভা নির্বাচন। ফলে এসআইআর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপির দাবি, এসআইআর শেষ হলেই বাংলায় ভোট। অপরদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও স্পষ্ট বলেছিলেন, “বাংলাতেও এসআইআর হবেই।”