পড়া বলতে না পারায় অন্ডালে নাবালক ছাত্রকে তুলে আছাড় মারার অভিযোগ গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। মোবাইলে ধরা পড়া নির্মম মারধরের ভিডিও ভাইরাল হতেই এলাকায় তীব্র শোরগোল।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 24 December 2025 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়া জিজ্ঞেস করায় উত্তর দিতে পারেনি, সাত বছরের নাবালককে কার্যত তুলে আছাড় মারলেন তার গৃহ শিক্ষক। হাত চেপে ধরা, চড়-থাপ্পড়, পিঠে মার, কোনওটাই বাজ গেল না। আর সবটা ধরা পড়ল মোবাইল ক্যামেরায়। পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) অন্ডাল (Andal) থানা এলাকার জামবাদ মাঝিপাড়া (Jambad Majhipara) জুড়ে এখন একটাই আলোচনা- এত নৃশংসও কেউ হতে পারে?
অন্ডাল থানা এলাকার বাসিন্দা রবি মাঝির (Rabi Majhi) সাত বছরের ছেলে চন্দন (Chandan) স্থানীয় গৃহশিক্ষক নীরজ কুমার বর্ণওয়ালের (Neeraj Kumar Barnwal) কাছে নিয়মিত পড়তে যেত। শুধু সে নয়, এলাকার আরও কয়েকজন পড়ুয়াও থাকত সেই দলে। অভিযোগ, পড়া না পারলেই ছাত্রদের মারধর শুরু করেন শিক্ষক। সেই ভয়াবহ ছবিটাই এবার প্রকাশ্যে এল।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পড়া বলতে না পারায় ক্ষুদে চন্দনের দু’টি হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছেন ওই শিক্ষক। এরপর একের পর এক সজোরে চড়-থাপ্পড়। শুধু মুখেই নয়, শিশুর পিঠ থেকে জামা সরিয়ে সেখানেও মারতে থাকেন নির্মমভাবে। যন্ত্রণায় কাঁদছে সে, কিন্তু তাতেও থামেননি নীরজ। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ছাত্রের কলার ধরে শূন্যে তুলে মাটিতে আছাড় মারছেন তিনি। সেই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।
এই ভয়াবহ ভিডিওটি মোবাইলে রেকর্ড করেছে এলাকারই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র বাসুদেব গোপ (Basudev Gop)। তার অভিযোগ, পড়াশোনা ঠিকমতো না করলেই এই ধরনের মারধর করেন ওই গৃহশিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই অত্যাচারের ছবি অবশেষে প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হতেই গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তাঁর বাড়িতে গিয়েও খোঁজ মেলেনি। এদিকে, আক্রান্ত শিশুর বাবা রবি মাঝি অন্ডাল থানায় (Andal Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সন্তানের উপর চালানো নির্মম নির্যাতনের কথা।
ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। অন্ডালের বহুলা পঞ্চায়েতের (Bahula Panchayat) উপপ্রধান বীর বাহাদুর সিং (Bir Bahadur Singh) বলেন, 'এই ধরনের শিক্ষক সমাজের জন্য বিপজ্জনক।' অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, পড়াশোনার নামে এইভাবে শিশুদের উপর অত্যাচার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনেকেই জানিয়েছেন, আগে থেকেই ওই শিক্ষকের রাগী স্বভাব নিয়ে কানাঘুষো ছিল, কিন্তু এমন ভয়ংকর রূপ কেউ কল্পনাও করেনি।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভাইরাল ভিডিও, ছাত্রের পরিবারের লিখিত অভিযোগ এবং প্রত্যক্ষ অভিযোগকারীদের বয়ানের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে অন্ডাল থানা, সেটাই দেখার।