
শেষ আপডেট: 7 June 2023 07:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্মতিপূর্ণ সহবাস, আর তার জেরেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী (minor pregnant)। প্রাথমিকভাবে গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল নাবালিকা। আদালত সেই আর্জি মঞ্জুর করলেও পরে বেঁকে বসে কিশোরী নিজেই। এরপরেই দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) বিচারপতি তার ইচ্ছার মর্যাদা দিয়ে নিরাপদ প্রসবের জন্য নাবালিকাকে একটি হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
১৪ বছরের নাবালিকা বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী। সূত্রের খবর, প্রেমিকের সঙ্গে সহবাসের জেরেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। সম্মতিপূর্ণ যৌনতা হলেও সেই নাবালিকা হওয়ায় তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো আইনের ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। গ্রেফতারও করা হয় ওই যুবককে। গত ২৭ মে থেকে ওই যুবক বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে ২২ বছরের দাদার মারফত দিল্লি হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছিল নাবালিকা। সেই আর্জিতে সম্মতি দিয়ে গত ৩১ মে গর্ভপাতের জন্য কিশোরীকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছিল আদালত। কিন্তু হাসপাতাল পরে জানায়, শেষ মুহূর্তে গর্ভপাত করাতে রাজি হয়নি কিশোরী। সে জানায়, সে প্রেমিককে বিয়ে করতে চায়। এবং সন্তান প্রসবের পর এই সন্তানকে দত্তক নেওয়ার জন্য দিয়ে দিতে চায়। এমনকী, কিশোরীর দাদাও সেই ইচ্ছেয় সায় দেন। তিনি জানান, তাঁদের বাবা মারা গিয়েছেন আগেই, মা নিজেও মানসিকভাবে অসুস্থ। এই অবস্থায় বোনের গর্ভপাত না করানো হলেই ভাল।
এরপর গত ১ জুন, বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানির সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনে নাবালিকা এবং তার দাদা দুজনেই একই ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরপর নাবালিকার পক্ষের আইনজীবী আদালতকে অনুরোধ করেন, অভিযুক্তকেও যাতে আদালতে ডাকা হয়, কারণ নাবালিকা তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। যদিও সেই আর্জি খারিজ করে দেন বিচারপতি। একই সঙ্গে নাবালিকার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তার সুস্থ এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য কিশোরীকে দিল্লির শাহদরা এলাকায় একটি মহিলাদের হোমে রাখার নির্দেশ দেন।
'এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত নাবালিকার গর্ভপাতের ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মামলায় দেখা যাচ্ছে, কিশোরীর একমাত্র অভিভাবক বলতে রয়েছে তার দাদা, যার বয়স ২২ বছর। এক্ষেত্রে সেই দাদাও মেডিক্যাল বোর্ড, এবং আদালত, উভয়ের কাছেই বোনের যাতে গর্ভপাত না করানো হয়, তার আর্জি জানিয়েছেন,' রায়ে জানিয়েছে আদালত।
প্রকাশ্যে তরুণীকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ে! ভিডিও ভাইরাল হতেই বিরোধীদের তোপের মুখে কংগ্রেস