১৬ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগ, জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় গওস বিশ্বাস নামে এক যুবকের সঙ্গে। ৩৫ বছরের গওস হরিহরপাড়ার মালোপাড়ার বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই নাবালিকা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।

থানায় নাবালিকা
শেষ আপডেট: 19 June 2025 16:11
পড়াশোনা করার তীব্র ইচ্ছে মনে। সব বাধা কাটিয়ে মাধ্যমিক পাশ করে। তারপর আরও এগোনোর আগে জোর করে ৩৫ বছরের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় বাবা। চলতে থাকে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। কিন্তু হার মানেনি মেয়ে। রাতের অন্ধকারে সব ভয় দূরে সরিয়ে পাঁচদিন আগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। না বাবার বাড়ি আর ফিরে যায়নি। পথে পথে ঘুরে অবশেষে হরিহরপাড়া থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ারের নজরে আসে। ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তাকে হরিহরপাড়া থানায় নিয়ে আসে।
১৬ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগ, জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় গওস বিশ্বাস নামে এক যুবকের সঙ্গে। ৩৫ বছরের গওস হরিহরপাড়ার মালোপাড়ার বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই নাবালিকা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। শুধু স্বামী নয়,নিজের পরিবারের বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে ওই নাবালিকা।
হরিহরপাড়া থানার আইসির কাছে নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে ওই নাবালিকা জানায়, চূড়ান্ত অসহায় হয়েই মাঝরাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল সে। দিন চারেক রাস্তায় রাস্তায় একা ঘুরে বেড়ানোর পর ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের চোখে পড়ে যায়। একটুও ভয় না পেয়ে আইসির কাছে নিজের বাবা ও যে যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
মেয়েটির জীবনযুদ্ধের কথা জেনে সময় নষ্ট করেননি আইসি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে পাঠিয়ে হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। নির্যাতিতাকে রাখা হয়েছে সুরক্ষিত আশ্রয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, বাল্যবিবাহ রুখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনও অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হরিহরপাড়া থানার আইসি বলেন, "বাল্যবিবাহ রোধে আমরা সর্বদা কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই নাবালিকার নিরাপত্তা ও ন্যায় নিশ্চিত করতে আইনানুগ সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। সে যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থাও হবে।"