একদিকে বিজেপির ভাষা-আন্দোলনের বার্তা, অন্যদিকে দক্ষিণী ও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ—সব মিলিয়ে ফের উত্তাল ভাষারাজনীতি।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 19 June 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে ভাষা-রাজনীতির (Language Politics) পারদ যখন চড়চড় করে চড়ছে, তখন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করল। একটি বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশে যাঁরা ইংরেজিতে (English Language) কথা বলেন, তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি ইংরেজি বলার জন্য লজ্জা পাবেন।” একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “দেশের ভাষাগুলি হল আমাদের সংস্কৃতির গয়না। এই ভাষাগুলির মর্যাদা রক্ষা না করতে পারলে, আমরা আর প্রকৃত ভারতীয়ই (Indian) নই।”
এই বক্তব্যের পরপরই শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। একদিকে বিজেপির ভাষা-আন্দোলনের বার্তা, অন্যদিকে দক্ষিণী ও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ—সব মিলিয়ে ফের উত্তাল ভাষারাজনীতি।
অনুষ্ঠানে শাহ বলেন, “দেশকে, সংস্কৃতিকে, ইতিহাসকে, ধর্মকে বোঝার জন্য কোনও বিদেশি ভাষাই যথেষ্ট নয়। আধা-অধর ভাষায় পূর্ণ ভারতের কল্পনা করা যায় না।” তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বের কাছেই ইংরেজি হয়ে উঠবে ঔপনিবেশিক দাসত্বের প্রতীক। সেই জায়গা থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে, আর তা তখনই সম্ভব যখন দেশি ভাষার মর্যাদা ফিরিয়ে আনা যাবে।
শাহ আরও বলেন, “আমি জানি এই লড়াই সহজ নয়। কিন্তু আমি নিশ্চিত, ভারতীয় সমাজ এই লড়াইয়ে জয়ী হবে। আত্মসম্মান ফিরিয়ে এনে, আবার নিজের ভাষাতেই আমরা দেশ চালাব এবং বিশ্বকে পথ দেখাব।”
নতুন শিক্ষানীতিতে তিন-ভাষা নীতি চালু হওয়ার পর থেকেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ উঠছে। তামিলনাড়ু সরকার প্রকাশ্যে বলেছে, এই নীতির আড়ালে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। একইসুরে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।
এই প্রেক্ষিতে কিছুদিন আগে শাহ জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগে সেই রাজ্যের মাতৃভাষা ব্যবহার করবে। তাঁর মতে, ভাষার ভিত্তিতে দেশে অনেক বিভাজন আগেই ঘটেছে, আর যেন না হয়।
শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য যে একপ্রকার রাজনৈতিক বার্তা, তা বলাই যায়। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি এবং ভাষার ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি যে নিজেদের সমর্থনঘাঁটি শক্ত করতে চাইছে, তা পরিষ্কার। তবে শাহের এই মন্তব্য দেশে নতুন করে ভাষা ভিত্তিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।