এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বাগডোগরাবাসী। শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থানা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 12:49
এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বাগডোগরাবাসী। শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থানা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপরেই বাবার মৃতদেহ আগলে বসে থাকতে দেখা যায় নাবালক ছেলেকে। অভিযোগ, সৎকারের জন্য ওই নাবালক থানায় ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে সাহায্য চাইতে গেলে সাহায্য করা হয়নি। তাই দিশেহারা হয়ে তাকে বাবার দেহ আঁকড়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ বাগডোগরা এশিয়ান হাইওয়ে দুই নম্বর ওভারব্রিজের নীচে একেবারে জনবহুল এলাকায় সুরজ মুন্ডা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও ব্রিজের নীচেই পড়েছিল মৃত ব্যক্তির দেহ। সৎকার করার মতো অর্থের জোগাড় করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ে ওই নাবালক। কার্যত বাড়ি ঘর খুইয়ে ওই ব্রিজের নীচেই মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁরা।
অভিযোগ, বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পরে কোনও উপায় না পেয়ে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায় ওই নাবালক। কিন্তু থানা থেকে কোনও সাহায্য না পেয়ে পরবর্তীতে ছেলেটি ছুটে যান বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতে। সেখানেও কোনও সাহায্য না পেয়ে ফের বাবার মৃতদেহের পাশে এসে বসে থাকে এবং সেখানেই তাকে কাঁদতে দেখা যায়।
ঘটনাটি বেশ কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং কিছু ব্যবসায়ীদের চোখে পড়ে। তাঁরা এগিয়ে আসেন। এই ঘটনার প্রায় ঘণ্টা তিনেক পরে আসে পুলিশ। তারা মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহের কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে সামনে পঞ্চায়েত কার্যালয় ও থানা থাকা সত্ত্বেও কেন কোনও সাহায্য করা হল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।