দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা চিকিৎসায় বহু ক্ষেত্রেই প্লাজমা থেরাপির সুফল দেখা গেছে। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই প্লাজমা ব্যাঙ্কও তৈরি হয়ে গেছে। কোভিড হানায় মৃত্যু ঠেকাতে কয়েকটি রাজ্য প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগে রীতিমতো সক্রিয়। তবে ইদানীং কালে এই থেরাপির প্রয়োগে বেশ কিছু ব্যর্থতার ঘটনাও ঘটেছে। প্লাজমা থেরাপিতে কোভিড মৃত্যু রোখা যায় কিনা সে নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। সবদিক বিচার করেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, এই থেরাপি এখনও গবেষণার পর্যায়তেই আছে। কাজেই রুটিন থেরাপি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
করোনা চিকিৎসায় কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির (সিপিটি) সুফল কতটা, তা খতিয়ে দেখতে গবেষণা শুরু করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীর মৃত্যু ঠেকাতে বা রোগের তীব্রতা কমাতে কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি উপযোগী নয়। ভারতের ৩৯টি হাসপাতালে এই প্লাজমা থেরাপির প্রভাব দেখে এই সংক্রান্ত গবেষণা করেছে আইসিএমআর। তারপরেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তারা। আইসিএমআর জানিয়েছিল, দেশের মোট ১৪টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত ৩৯টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে প্লাজমা থেরাপি সংক্রান্ত গবেষণা চালানো হয়। মোট ৪৬৪ জন কোভিড রোগীর মধ্যে ২৩৫ জনের শরীরে এই থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হয়। বাকি ২২৯ জনের উপর এই থেরাপির প্রয়োগ হয়নি। দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হার যথাক্রমে ১৩.৬ শতাংশ (৩৪ জন) এবং ১৪.৬ শতাংশ (৩১ জন)। অর্থাৎ, দু’টি ক্ষেত্রে মৃত্যুর হারে তেমন কোনও পার্থক্যই মেলেনি।
ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, প্লাজমা থেরাপি জরুরি ক্ষেত্রে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিচার করেই করা উচিত। সকলের ক্ষেত্রেই অহেতুক জোর করে এই থেরাপির প্রয়োগ সুফলও নাও আনতে পারে। তাছাড়া গবেষণার পর্যায়ে থাকা একটি পদ্ধতিকে কোভিড চিকিৎসার রুটিন থেরাপি করে ফেললে মুশকিল। অনেক ভেবেচিন্তে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিকে।
একই সঙ্গে করোনার ওষুধ রেমডেসিভির নিয়েও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই ওষুধেরও সার্বিক প্রয়োগ জোর করে করা উচিত নয়। রোগীর স্বাস্থ্য বুঝেই ওষুধের থেরাপি করতে হবে। করোনার প্রতিষেধক হিসেবে যে কোনও থেরাপি বা ওষুধই গবেষণার পর্যায়তেই আছে। এই সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলিকে রুটিন থেরাপির পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত হবে না।
কোভিড ভ্যাকসিন বা সংক্রমণ প্রতিরোধী কার্যকরী ওষুধ না আসা অবধি প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তবে সঠিক নির্দেশিকা মেনে এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই এই থেরাপির প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছিল। প্লাজমা থেরাপি হল এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর একটাই কারণ, সেটা হল সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমায় যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করা। ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন যিনি তার অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে গিয়েও একইরকম ক্ষমতা দেখাবে বলেই দাবি গবেষকদের। তবে আইসিএমআর জানিয়েছে, আইসিএমআর জানিয়েছিল, প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের আগে, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও রক্তের আরও কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। কারণ প্লাজমা থেরাপি সব রোগীর উপরে প্রয়োগ করা নাও যেতে পারে। সংক্রমণের ধরন, উপসর্গ, রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনেক কিছু পরীক্ষা করে দেখে তবেই এই থেরাপির প্রয়োগ হতে পারে।