হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য আলাদা আলাদা হেঁসেলে রান্না হচ্ছে মিডডে মিল। পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নাদনঘাট থানা এলাকায় কিশোরীগঞ্জ-মনমোহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ল।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 17:03
হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য আলাদা আলাদা হেঁসেলে রান্না হচ্ছে মিডডে মিল। পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নাদনঘাট থানা এলাকায় কিশোরীগঞ্জ-মনমোহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ল।
দ্বিজাতি তত্ত্ব আঁকড়ে আজ থেকে ৭৭ বছর আগে ভারত ভাগ হয়েছিল। একই তত্ত্বে এবার ’দ্বিধা- বিভক্ত’ প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা। ঘটনা জানাজানি হতেই রাজ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নডেচড়ে বসেছে জেলা ও ব্লক প্রশাসন।জেলাশাসক আয়েশা রানি এ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মহকুমাশাসককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা ৭২ জন। শিক্ষক ও শিক্ষিকা মিলিয়ে রয়েছেন চারজন। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পরিবারের ছেলে মেয়েরা এই স্কুলের ক্লাসরুমে একসঙ্গে বসে পড়াশোনা করে। তা নিয়ে কোনও বিভেদ নেই। কিন্তু মিড-ডে মিল রান্না হয় আলাদা হেঁসেলে।
মিড-ডে মিল রান্নার যে আলাদা হেঁসেল রয়েছে, সেই কথা মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষও অস্বীকার করতে পারেননি। স্কুলের রাঁধুনিদের একজন হিন্দু ,অপর জন মুসলিম । তাঁরাই জানিয়েছেন, মিড-ডে মিল রান্নার হেঁসেল আলাদা। হিন্দু রাঁধুনি সোনালি মজুমদার আলাদা গ্যাসের উনুনে রান্না করেন হিন্দু পরিবারের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল। আর অপর গ্যাসের উনুনে মুসলিম রাঁধুনি গেনো বিবি রান্না করেন মুসলিম পরিবারের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল। শুধু আলাদা আলাদা ভাবে রান্না করাই নয়, হেঁসেলে দুই সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল রান্নার উপকরণ থেকে শুরু করে বাসনপত্র ,হাঁড়ি,কড়াই,খুন্তি- সেসবও আলাদা আলাদা রয়েছে। এমনকি হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ৪৩ ও ২৯ জন পড়ুয়াকে মিড- ডে মিল খাওয়ানোও হয় আলাদা আলাদা জায়গায় বসিয়ে।
সরকারি একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য় আলাদা মিড-ডে মিল রান্না হলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত তা নিয়ে কেন আপত্তি তুলল না, সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও পূর্বস্থলীর নসরৎপুর পঞ্চায়েতের প্রধান কানন বর্মন মঙ্গলবার বলেন, "স্কুলটিতে মিড-ডে মিল চালু হওয়ার পর থেকেই এমন ঘটনা চলে আসছে বলে এখন জানতে পেরেছি। এমন কালচার যাতে বন্ধ হয়, তার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।" পূর্বস্থলী ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়। রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামকে নিয়ে গর্বিত বাংলায় এমন ঘটনা বেমানান। অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া দরকার।"
এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমি মাত্র একবছর হল এই স্কুলে এসেছি। তার অনেক আগে থেকেই স্কুলে এইভাবে মিড-ডে মিল রান্না হচ্ছে। এই কারণে মিড-ডে মিলের খাতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এটা যাতে বন্ধ হয়, সেটা দেখব।”
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা গণেশ গোঁসাই বলেন, “স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকাটা ঠিক নয়। সরকারি স্কুলে হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়াদের জন্য আলাদা আলাদা করে মিড রান্না বন্ধ হোক, এটাই আমি চাই। কারণ ধর্ম নিরপেক্ষতাই আমাদের ভারতবর্ষের গর্ব।"