বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বোরখা পরা কেউ সন্দেহজনকভাবে বাড়িতে ঢুকছে ও পরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেই তরুণী ছাদ থেকে পড়ে যান ও পরে মৃত্যু হয়।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোক নগরে নিজের বাড়ির পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল ১৯ বছরের এক তরুণীর। অভিযোগ, ওই তরুণীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন করেছেন এক যুবক। মৃতার নাম নেহা। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ বছরের তৌফিককে। যিনি উত্তরপ্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি প্রথমে জানানো হয় জ্যোতি নগর থানায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নেহাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় গুরু তেজ বাহাদুর (GTB) হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, তৌফিক বোরখা পরে নেহাদের বাড়িতে ঢুকেছিলেন। পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীরা যাতে তাঁকে চিনতে না পারেন, সেই উদ্দেশেই এমন ছদ্মবেশ নেন তিনি। জেরায় তৌফিক নিজেই স্বীকার করেছেন সে কথা। জানা যায়, সরাসরি নেহার কাছে পৌঁছনোর জন্য এই ছদ্মবেশ।
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে একটি বোরখা পরা মানুষ সন্দেহজনকভাবে বাড়িতে ঢুকছে ও পরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এখন গোটা ঘটনার তদন্তে বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তাদের দাবি, নেহা ও তৌফিকের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরে নেহা জানতে পারেন তৌফিকের পরিবার তাঁর অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছে। এই নিয়েই দু’জনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়, যার পরিণতিতে তৌফিক ঘরে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটায়।
তবে নেহার পরিবারের দাবি একেবারেই আলাদা। তাঁদের বক্তব্য, নেহা ও তৌফিকের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং নেহা তৌফিককে ভাই বলতেন এবং প্রতি রাখি পূর্ণিমায় রাখি পরাতেন। গত তিন বছর ধরে তৌফিক তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করছেন। তাঁকে আত্মীয়ের মতোই মনে করতেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন তৌফিক। মঙ্গলবার রাতে আটক করে জেরা শুরু করা হয়। আপাতত তদন্ত চলছে। নেহার মৃত্যু খুন না কি দুর্ঘটনা, তা নিয়েও পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।