সূত্রের খবর, নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মায়ের আধার যাচাই সম্ভব হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 September 2025 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের মুখে খাবার নিয়ে তৈরি হল ঘোর অনিশ্চয়তা। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শিশুর মায়ের ই-কেওয়াইসি যাচাই না হলে মিলবে না মিড ডে মিল(Mid-Day Meal)।
ফলে রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মা ও শিশু পড়েছেন চরম বিপাকে (lakhs of children-mothers in trouble)। সূত্রের খবর, নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মায়ের আধার যাচাই সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নথিভুক্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭১ লক্ষ ৬৯ হাজার। আগে খাতায়-কলমে হিসেব রাখা হলেও, পরে কেন্দ্রীয় সরকার ‘পোষণ’ অ্যাপে সেই তথ্য তোলার নির্দেশ দেয়। তার পরেই মায়ের আধার কার্ডের তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এবার নতুন ফরমান—মায়ের আধার তথ্য যাচাই করতে হবে ওটিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ, মায়ের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকলেই সম্ভব হবে যাচাই।
কিন্তু এখানেই শুরু সমস্যা। বহু ক্ষেত্রে মায়েদের আধার মোবাইলের সঙ্গে যুক্ত নয়। কারও কারও সিম অকেজো হয়ে পড়েছে বা অন্যের নামে ইস্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইসিডিএস কর্মী সমিতির সভানেত্রী ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শিশুর মায়ের মুখের ছবি আধারের সঙ্গে মেলেনি এমন ঘটনাও রয়েছে, কারণ অনেকে নাবালিকা অবস্থায় বিবাহিত হয়েছেন। ফলে পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান মুখ মিলছে না। আবার পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক না থাকলে অ্যাপে যাচাইয়ের কাজও শেষ হচ্ছে না।’’
অন্যদিকে, আধার-মোবাইল লিঙ্কের জন্য এখন পোস্ট অফিস ও ব্যাঙ্কগুলিতে ভিড় বাড়ছে। ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে তিন-চার হাজার আধার-মোবাইল লিঙ্ক হত, গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজারে।
সব মিলিয়ে, শিশুদের খাবার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কেন্দ্রের শর্ত মানতে না পারলে খাবার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা মা ও শিশুরা। আইসিডিএস কর্মীরাও কার্যত অসহায়।