লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী মাঠে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার মামলায় বড় নির্দেশ আদালতের। মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল বিধাননগর আদালত।

শতদ্রু দত্ত (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 December 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিওনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে (Yuva Bharati) ঘটে যাওয়া তুমুল বিশৃঙ্খলার মামলায় বড় নির্দেশ আদালতের। মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Satadru Dutta) ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দিল বিধাননগর আদালত (Bidhannagar Court)। স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় রবিবার তাঁকে পেশ করা হয়।
মেসির কলকাতা সফরের সময় যুবভারতী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যাপক ভাঙচুর, অশান্তি আর হিংসার ছবি সামনে আসে (Messi in Kolkata)। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতেই বিধাননগর কমিশনারেট (Bidhannagar Commissionerate) দ্রুত পদক্ষেপ করে। একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়।
মেসিকে কলকাতায় আনার মূল আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন শতদ্রু দত্ত। ঘটনার পরই তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রবিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে (Bidhannagar Sub-Divisional Court) পেশ করা হয়। তাঁকে যখন এদিন আদালতে তোলা হচ্ছিল, তখন বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। জড়ো হন ভুক্তভোগীরাও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অশান্তি সৃষ্টি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫ ও ৪৬ ধারায় মামলা রুজু হয়। এই সব ধারাতেই বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার রাতে শহরে পা রাখেন লিওনেল মেসি। তাঁর কর্মসূচি ছিল ঠাসা। যুবভারতীতে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে দর্শকরা জমায়েত হন। আসেন অসম-ওড়িশা বা প্রতিবেশী রাজ্যের লোকজনও।
তবে যুবভারতীতে মেসি ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দর্শকদের অভিযোগ, মেসিকে ঘিরে ছিলেন ভিআইপিরা (VIPs)। তাঁদের সংখ্যা কমিয়ে ১০০ করা হলেও, গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট মেসিকে দেখা যায়নি। এই নিয়েই ক্ষোভ জমতে থাকে। একসময় বোতল ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে মেসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত মাঠ ছেড়ে চলে যান।
এরপরই যুবভারতীজুড়ে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হয়। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে। এবার সেই মামলায় ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে গিয়ে তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।