দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে সিটের সামনে হাজির হন ওই তিন কর্তা। তাঁদের কাছে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে, অনলাইন টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার নেপথ্যে কারা যুক্ত ছিলেন এবং কীভাবে বিভিন্ন ডিল সম্পন্ন হয়েছিল।

যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা
শেষ আপডেট: 21 December 2025 21:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফর (Leonel Messi Kolkata Tour) ঘিরে হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় (Yuva Bharati Krirangan chaos) তদন্ত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেন- সব দিক খতিয়ে দেখতে তৎপর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট (SIT investigation)। এই তদন্তের স্বার্থে অনলাইন টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সিইও-সহ ম্যানেজার ও ডিরেক্টরকে দিল্লি থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে সিটের সামনে হাজির হন ওই তিন কর্তা। তাঁদের কাছে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে, অনলাইন টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার নেপথ্যে কারা যুক্ত ছিলেন এবং কীভাবে বিভিন্ন ডিল সম্পন্ন হয়েছিল। পাশাপাশি বড় অঙ্কে টিকিট কারা কিনেছিলেন, সেই তালিকাও তদন্তকারীরা চেয়েছেন। এছাড়া কোনও প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীর তরফে টিকিটের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, শুক্রবার ঘটনার মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের (Shatadru Dutta investigation) রিষড়ার তিনতলা বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিট (SIT)। পুলিশের দাবি, ভিড় সামলানোর গাফিলতির পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা শতদ্রু দত্তের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট প্রায় ২২ কোটি টাকা রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য প্রথমে মাঠে প্রবেশের অনুমতি হিসেবে মাত্র ১৫০টি পাস ইস্যু করা হয়েছিল। তবে পরে কয়েকজন প্রভাবশালীর চাপে পড়ে সেই সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হন আয়োজকরা, এমনই তথ্য দিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন, লিওনেল মেসির নিরাপত্তা টিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে অনুষ্ঠানের সময় ফুটবলারকে কোনওভাবেই স্পর্শ করা যাবে না। অভিযোগ, সেই সতর্কতা মানা হয়নি, যার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পুরো ঘটনার পেছনে কারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নিয়েছেন এবং কোথায় নিয়ম ভাঙা হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে একের পর এক সূত্র ধরে এগোচ্ছে সিট। টিকিট বিক্রি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেন, সবকিছু মিলিয়ে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।