প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Shatadru Dutta) ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং নিয়মিত জেরা চলছে।
.jpeg.webp)
ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 20 December 2025 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati) লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Shatadru Dutta) ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং নিয়মিত জেরা চলছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার মুখে শতদ্রু দাবি করেছেন— ঘটনার দিন মাঠে ইভেন্ট পরিচালনার জন্য তাঁর সংস্থার প্রায় ১৫০ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) আমন্ত্রিত প্রায় ৩০০ জন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। শতদ্রুর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। যদিও এই বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না।
সূত্রের দাবি, পুলিশের কাছে শতদ্রু অভিযোগ করেছেন, মেসি মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই গোটা অনুষ্ঠান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। পূর্বনির্ধারিত ফ্লো-চার্ট ভেঙে যায় এবং মেসির চলাচল কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বারবার ‘হাফ হাগ’ করা এবং অতিরিক্ত সেলফি তোলার চেষ্টা থেকেই মেসি ও তাঁর সঙ্গীরা বিরক্ত হন বলে জেরায় জানিয়েছেন শতদ্রু। সেই কারণেই পরিস্থিতি ক্রমে অশান্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেরার সময় শতদ্রু দাবি করেছেন, গোটা অনুষ্ঠানের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ‘গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর জন্য মেসির পারিশ্রমিকই ছিল প্রায় ৮৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে জিএসটি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে মোট অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটিতে পৌঁছয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুক্রবার বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ শতদ্রুর হুগলির রিষড়ার বাড়িতেও তল্লাশি চালায়।
তদন্তকারীদের দাবি, শতদ্রুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোট খরচের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা এসেছে আদানি-সহ বিভিন্ন স্পনসরদের কাছ থেকে। আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা এসেছে হায়দরাবাদ থেকে। বাকি অর্থ টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কলকাতায় টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল বলেও জেরায় জানিয়েছেন শতদ্রু।
তবে পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই অর্থ আপাতত আয়োজক সংস্থাকে না দিতে। যুবভারতীতে সেদিনের বিশৃঙ্খলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই টাকা ওই অর্থ থেকেই আদায় করার দাবি উঠেছে বলে তদন্ত সূত্রে খবর।