দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর সাংসারিক জীবন যাপন করার জন্য মনোবিকার কোনও বাধা হতে পারে না এবং সেই কারণেই এটি বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়ার যথেষ্ট কারণ নয়। আদালতে স্ত্রী'র মানসিক অসুস্থতার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে গুরগাঁওয়ের এক ব্যক্তির আবেদন নাকচ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে।
বিচারপতি রাকেশ কুমার জৈন ও হরনরেশ সিং গিল–এর ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের রায়ে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে মহিলা মনোবিকার এবং অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার–এ (ওসিডি) আক্রান্ত। এই অসুস্থতা যথাযথ ও নিয়মিত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ করে রাখা যায়। স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর সাংসারিক জীবন যাপন করার ক্ষেত্রে এই অসুস্থতা প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে এমন কোনও সন্দেহাতীত প্রমাণ নেই। ফলে মনোবিকারের কারণে নিষ্ঠুরতার যে কথা আবেদনকারী জানিয়েছেন সেটি গ্রাহ্য করা যায় না। ''আবেদনকারীর স্ত্রী মনোবিকারগ্রস্ত অথবা ওসিডি আক্রান্ত হওয়ার কারণে স্বাভাবিক সাংসারিক জীবন যাপন করতে অক্ষম এমন কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে মানসিক অসুস্থতার কারণে স্ত্রী'র নিষ্ঠুরতার অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়া যায় না।''
ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে আরও জানায়, এমন কোনও তথ্য আদালতে পেশ করা হয়নি যাতে প্রমাণিত হয় যে মহিলার আচরণে হিংস্র বা আত্মঘাতী কোনও ঝোঁক দেখা গিয়েছে। নিষ্ঠুরতার যে অভিযোগ স্বামীর তরফে আনা হয়েছে তা অনেকটাই অস্পষ্ট এবং তথ্য প্রমাণহীন। নিষ্ঠুরতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও তীব্র না হলে সেটি বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে গ্রাহ্য করা যায় না। দাম্পত্য জীবনের দৈনন্দিন ঝগড়া বা জিনিসপত্র ছোড়াছুড়ি নিষ্ঠুরতার প্রমাণ বলে গণ্য করার কোনও কারণ নেই। এই সংঘাত একটি নির্দিষ্ট পর্যায় না পৌঁছলে তাকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না।
২০০৮ সালে আবেদনকারী ব্যক্তি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। পারিবারিক আদালতে পেশ করা তাঁর বয়ান অনুযায়ী মানালিতে যাওয়ার সময় একবার তাঁর স্ত্রী চলন্ত ট্যাক্সি থেকে বাইরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করে। কথাবার্তা বলার সময় অত্যন্ত 'খারাপ ভাষা' ব্যবহার এবং বাথরুমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে বসে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ভদ্রলোকের আরও অভিযোগ তাঁর স্ত্রী মাঝেমাঝে টানা ২৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে এবং কখনও কখনও সারা রাত ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখে। মানসিক অত্যাচার ও হেনস্থার অভিযোগের উত্তরে তাঁর স্ত্রী জানান, চার লক্ষ টাকা পণের জন্য তাঁকে নানা ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। ২০১৫ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় নিম্ন আদালতে হেরে যাওয়ার পর স্বামী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।