দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ট্যাগ করে একটি টুইট বার্তায় মেনকা জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং বৈষম্যহীনতার আদর্শই তাঁর জীবন ও কর্মের মূল চালিকাশক্তি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেনকা গুরুস্বামী
শেষ আপডেট: 28 February 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন রাজ্যসভা (Rajya Sabha Candidate) নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Congress) প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করলেন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy)। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ট্যাগ করে একটি টুইট বার্তায় মেনকা জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং বৈষম্যহীনতার আদর্শই তাঁর জীবন ও কর্মের মূল চালিকাশক্তি। এবার সেই আদর্শকেই তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে বয়ে নিয়ে যেতে চান।
সংবিধানের মূল্যবোধ ও জনপ্রতিনিধিত্ব
মেনকা তাঁর টুইটে লিখেছেন, “আমাদের সংবিধানের সাম্য, মৈত্রী এবং অবৈষম্যের যে মূল্যবোধ, তা আমার জীবন এবং কাজের দিশারি হয়ে থেকেছে। আমি আশা করি এই আদর্শগুলিকেই সংসদে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।” বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং ভারতের সাধারণ মানুষের সেবা করতে উন্মুখ হয়ে আছি।”
মেনকা সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী (Supreme court lawyer Menaka Guruswami)। আমলাতন্ত্রে সংস্কার, সালমা জুড়ুম-সহ একাধিক মাইলফলক মামলার শুনানিতে তাঁর বড় অবদান রয়েছে। সেদিক থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটা বাস্তব দিক রয়েছে বলে কালীঘাট ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন।
তৃণমূলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আইনজীবীরা রয়েছেন ঠিকই। তবে মেনকার উচ্চতা অন্যস্তরের। এর আগে একটা সময়ে কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। তার পর থেকে তেমন দুঁদে আইনজীবী তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে নেই। এখন অভিষেক সিঙ্ঘভি বা কপিল সিবল্লের পরামর্শ নিতে গেলে রাজ্য সরকারকে মোটা ফি দিতে হয়। মেনকা হয়তো সেই শূণ্যস্থান পূরণ করতে পারেন।
মেনকা গুরুস্বামীর সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য হল ঔপনিবেশিক যুগের বিতর্কিত ৩৭৭ ধারা বাতিল—যে আইন পারস্পরিক ভাবে সম্মত সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করত। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা ১৫২৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যার মামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত আইনচর্চায় তিনি দেওয়ানি আইন, বাণিজ্যিক আইন এবং হোয়াইট-কলার অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় সুপরিচিত।
আন্তর্জাতিক স্তরেও মেনকার অবদান স্বীকৃত। ২০১৯ সালে ফরেন পলিসি (Foreign Policy) পত্রিকার “১০০ জন প্রভাবশালী গ্লোবাল থিঙ্কার”-এর তালিকায় তিনি স্থান পান এবং একই বছরে অরুন্ধতী কাটজুর সঙ্গে টাইম ম্যাগাজিনের “১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের” তালিকায় উঠে আসেন।
রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। ইউনিসেফের (নিউ ইয়র্ক ও দক্ষিণ সুদান) উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বিষয়ে তাঁর পরামর্শ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়াতেও তিনি সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছেন।
অতীতে আরজি কর কাণ্ড (RG Kar case) হোক বা আই-প্যাক মামলা (IPAC case), কিংবা হালফিলের এসআইআর মামলা (SIR case), এই ক্ষুরধার আইনজীবী কখনও সরকার কখনও তৃণমূলের আইনজীবী হয়ে সওয়াল করেছেন। তাঁর সওয়ালের ধরন, আগ্রাসী স্বভাব নবান্নের চোদ্দ তলাকে বারে বারে মুগ্ধ করেছে। তা সে মামলায় ফল পাক বা না পাক। এবং এই পরম্পরারই সর্বশেষ অধ্যায় ছিল সম্প্রতি হাইকোর্টে আই প্যাক মামলার শুনানি।