দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৭ অক্টোবর মেঘালয়ের ওয়েস্ট খাসি হিলসের এক গ্রামের বাসিন্দা মরিস মারনগারকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় তাঁর আত্মীয়রা। ৮০ বছর বয়সী মরিস পরদিনও বাড়ি ফেরেননি দেখে তাঁর ছেলেমেয়েরা গ্রামপ্রধানকে সব কথা জানান। গ্রামপ্রধান পুলিশকে খবর দেন। পরে জানা যায়, আত্মীয়রা তাঁকে জীবন্ত কবর দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মরিস ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছিলেন। পুলিশ আপাতত আটজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের তিনজন বৃদ্ধের ভাইপো।
সোমবার পাঁচ ফুট গভীর কবর থেকে বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেখা যায়, মৃতদেহের হাত-পা বাঁধা। মুখও কাপড় দিয়ে ঢাকা রয়েছে। পুলিশ সুপার হারবার্ট লিংডো বলেন, "৭ অক্টোবর রাতে বৃদ্ধকে জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়। ১১ অক্টোবর তাঁর তিন ভাইপো ডেনিয়েল, জালিস ও ডিফারওয়েলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বৃদ্ধের দেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। কবরের ওপরে ছিল একটি ক্রস। তাতে লেখা ছিল, রেস্ট ইন পিস।"
বৃদ্ধের এক ভাইপো অভিযোগ করে, তিনি তাদের বোনকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। বোন তিন মাস ধরে অসুস্থ ছিল। বৃদ্ধ মন্ত্রতন্ত্র পড়ে মেয়েটির ক্ষতি করেছিলেন। তাদের ধারণা, বৃদ্ধের মৃত্যুর পরে মেয়েটি সেরে উঠছে।
দিন চারেক আগে ঝাড়খণ্ড থেকে খবর পাওয়া যায়, ডাইনিবিদ্যা চর্চার অভিযোগে তিন মহিলা ও এক পুরুষের ওপরে অত্যাচার করেছে জনতা। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ জন ঘিরে ধরেছিল চারজনকে। তাঁদের নগ্ন অবস্থায় গ্রামের রাস্তায় হাঁটানো হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের নারায়ণপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। গ্রামে গণধোলাইয়ের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ দেখেই রণে ভঙ্গ দেয় উন্মত্ত জনতা। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে যায় ভিড়। জটলার মধ্যে থেকেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আক্রান্ত তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তিকে গণপ্রহারের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করে পুলিশ। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম রবি কুমার এবং বাসুদেব। তাদের গ্রেফতার করে সাদার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রামবাসীদের কথায়, ওই গ্রামেরই বাসিন্দা বালি রাজওয়ারের দুই মেয়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এতেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তির উপর। অভিযোগ তাদের ডাইনিবিদ্যা, কালা-জাদু এসবের প্রভাবেই বালি রাজওয়ারের মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই রাজওয়ার পরিবারই প্রথমে ওই তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। তাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দেয়। অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে বালি রাজওয়ারের পরিবারের সদস্য বিকাশ কুমার সাউ, বাবলু রাম, রজদ পাসওয়ান, রবি কুমার রাম এবং রাজু রামের।