রাজ্যে আসন্ন ভোটের মুখে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা।

মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 5 March 2026 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে আসন্ন ভোটের মুখে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। আর এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনও ভোট করানো যাবে না— এই দাবিতেই বুধবার রাত থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (CEO) অফিসের সামনে ধর্নায় বসেছে সিপিএম। মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বামফ্রন্টের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Meenakshi Mukherjee)।
বামেদের অভিযোগ, ‘ভুয়ো ভোটার’ সরানোর নামে কার্যত বৈধ ভোটারদেরই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। ধর্নামঞ্চ থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের তোপ, “বৈধ ভোটারদের তালিকায় ফেরাতে হবে। এতদিন কি বিজেপি-তৃণমূল (BJP TMC) বোঝাপড়া করে ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে ভোট করিয়েছিল? এখন পরিচ্ছন্ন তালিকার দোহাই দিয়ে প্রান্তিক মানুষের নাম কাটা যাবে কেন?” তাঁর দাবি, কেবল সংখ্যালঘু নয়, এই কোপ পড়েছে মতুয়া, আদিবাসী এবং নিম্নবিত্ত মেহনতি মানুষের ওপর। মীনাক্ষীর কথায়, “যারা সংবিধান মানে না, সেই বিজেপি-র কাছে এর চেয়ে বেশি আর কী আশা করা যায়!”
তৃণমূল-বিজেপিকে এক আসনে আক্রমণ
আদালত যদি ছুটির দিনে বসতে পারে, তবে কমিশন কেন দিন-রাত এক করে এই ৬০ লক্ষ নামের ফয়সালা করতে পারবে না— সেই প্রশ্নও তুলেছেন বাম নেত্রী। আগামী শুক্রবার এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় বসা প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন, “তৃণমূল ভুয়ো ভোটার দিয়ে ভোট লুঠ করে জিতেছিল, আর বিজেপি সেই অজুহাতে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। আমরা কাউকেই ছাড়ব না। যতক্ষণ এই নামের ফয়সালা হচ্ছে না, লড়াই চলবে।”
সেলিমের নিশানায় সিইও
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আক্রমণ আরও শাণিত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ‘বিচারাধীন’ শব্দের প্রয়োগ নিয়ে। সেলিমের বক্তব্য, “কয়লা চোর বা অপরাধীরা বিচারাধীন হবে, সাধারণ অসহায় মানুষ কেন ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হয়ে থাকবেন? অবিলম্বে এই ৬০ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।”
রাত গড়িয়ে ভোর হলেও বামেদের এই ধর্না তোলা যায়নি। সিপিএমের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই অচলাবস্থা না কাটলে আন্দোলনের তেজ আরও বাড়বে।