তৃণমূলের (TMC) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে (Lakshmir Bhandar) কার্যত বিদ্রূপ করে তিনি একে ‘মন ভোলানো’ কৌশল এবং দুর্নীতির ‘ক্ষুদ্র জরিমানা’ বলে কটাক্ষ করলেন।

মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 22 February 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) রণভেরী বাজার আগেই রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে ‘ভাণ্ডার’ দখলের লড়াই। রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিলেন সিপিএমের (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। তৃণমূলের (TMC) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে (Lakshmir Bhandar) কার্যত বিদ্রূপ করে তিনি একে ‘মন ভোলানো’ কৌশল এবং দুর্নীতির ‘ক্ষুদ্র জরিমানা’ বলে কটাক্ষ করলেন। সেই সঙ্গেই সেলিমের দাবি, বামেরা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের এর চেয়ে ঢের বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব।
‘টুকলি’ ও ‘অধিকার’ বিতর্ক
এদিন বৃন্দা কারাতের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে সেলিম অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সমস্ত ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প আসলে কেরলের ‘কুটুম্বশ্রী’র অনুকরণ। তাঁর কথায়, “কেরল ২৫ বছর আগে এই পথ দেখিয়েছে। এখানে যা হচ্ছে তা আদতে টুকলি।” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে সেলিম বলেন, “রান্নাঘরের খরচ বেড়েছে, আয় কমেছে। নির্বাচন পার হতে বিজেপি-তৃণমূল এসব নাম দিয়েছে। ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে একে ভাণ্ডার কেন বলছে? ভাণ্ডার তো ছিল অর্পিতার খাটের নীচে বা মন্ত্রীদের ঘরে। মহিলারা যা পাচ্ছেন, তা লুঠ করা ভাণ্ডারের যৎসামান্য জরিমানা মাত্র।”
কোথা থেকে আসবে টাকা?
বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে ভাতার অঙ্ক বাড়ানোর রসদ কোথা থেকে মিলবে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেলিম। বুকে হাত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এর থেকে অনেক বেশি দিতে পারব। কারণ, আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে পারব। কাটমানি আর দুর্নীতির টাকা বাঁচালেই কোষাগারে টান পড়বে না।” সেলিমের দাবি, তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো রাজ্যগুলি অনেক বেশি টাকা দিচ্ছে, সেখানে বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে? তবে একে নিছক ভাতা নয়, মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে দেখতে চান তিনি।
মোদী-মমতা ‘ভয়ের রাজনীতি’
এদিন বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানান সেলিম। তাঁর মতে, উত্তরপ্রদেশের যোগীরাজ্যে যা যা ঘটে, তার ছোট সংস্করণ বাংলাতেও দেখা যাচ্ছে। গণপিটুনি থেকে শুরু করে ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রি নিয়ে অশান্তি— সব উদাহরণই টেনেন তিনি। সেলিমের বক্তব্য, “মোদী আর মমতা আগে ভয় দেখান, তারপর বলেন ‘আমি ছাড়া তোমাদের কে বাঁচাবে’। তাঁরাই মারেন, আবার তাঁরাই রক্ষাকর্তা সাজেন।”
১ মার্চ থেকে প্রচার, নারী ক্ষমতায়নে জোর
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার অপেক্ষায় না থেকে আগামী ১ মার্চ থেকেই বামেরা ময়দানে নামছে বলে জানান সেলিম। এবারের ভোটে সিপিএমের রণকৌশলে বড় চমক থাকতে চলেছে। সেলিম জানান, এবার প্রার্থী তালিকায় গতবারের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকবে। রাজ্যস্তরের ইস্তাহারের পাশাপাশি জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা ইস্তাহার তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে আলিমুদ্দিন। স্কুলছুট কমাতে ছাত্রীদের যাতায়াত নিখরচায় করার মতো সামাজিক প্রকল্পগুলিও বামেদের ভাবনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রবল জনপ্রিয়তাকে সরাসরি অস্বীকার না করে তার চেয়ে ‘বেশি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কেই থাবা বসাতে চাইছেন সেলিম।