ভোটের প্রাক্কালে খাদ্যাভ্যাসের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ও যে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে রেখে মেরুকরণের চেষ্টা নতুন নয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 4 March 2026 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Elections 2026) যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনীতির ময়দানে নতুন নতুন ইস্যু সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মাছ-মাংস (Meat Row) খাওয়ার প্রসঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee) একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তার জবাবে সরব হলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
অভিষেকের অভিযোগ, মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করছে বিজেপি (West Bengal BJP)। বাংলায় কে কী খাবে, তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত ‘তফসিলি সংলাপ’ কর্মসূচি থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কটাক্ষ করেন তিনি। সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে অভিষেক বলেন, গেরুয়া শিবিরের পরিবর্তন যাত্রাপথে (BJP Paribartan Yatra) মাছ-মাংস-ডিম রান্না করে খাওয়ান।
এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। বুধবার সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, কারও খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাঁর কথায়, “কে মাছ-মাংস খাবেন আর কে খাবেন না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। বহু বাঙালি ধর্মীয় কারণে নিরামিষ খান। আবার অনেকে আমিষ পছন্দ করেন। আমিও করি। এতে রাজনীতির কিছু নেই।”
একই সঙ্গে অভিষেককে উদ্দেশ করে সুকান্তর মন্তব্য, তাঁর যাত্রাপথে যদি তিনি মাছ-মাংস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, দুজনে একসঙ্গেই খাবেন। এই প্রসঙ্গ টেনে সুকান্তর এও খোঁচা, ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস ভয় সিঁটিয়ে আছে আর অভিষেক মাছ-মাংস ধরে বাঁচার চেষ্টা করছেন।
ভোটের প্রাক্কালে খাদ্যাভ্যাসের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ও যে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে রেখে মেরুকরণের চেষ্টা নতুন নয়। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে থাকা খাবারও যে ভোটের আলোচনায় জায়গা করে নেবে, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।
প্রসঙ্গত, ‘তফসিলির সংলাপ’ সম্মেলনে অভিষেক সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও নিশানা করেন বিজেপিকে।
এরই পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, রাজ্যে তপশিলি জাতি ও উপজাতির মা-বোনেরা এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা (বর্তমানে বর্ধিত হারে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার প্রসঙ্গ) পাচ্ছেন। দলিত নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এই উন্নয়নমূলক মডেলকেই যে দল হাতিয়ার করতে চাইছে, তা স্পষ্ট।