ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা নিয়ে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি, বিজেপির ইস্তাহারকে অনুকরণ ও আশঙ্কার মিশেল বলে দাবি করলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক।

মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 10 April 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বাংলার রাজনীতির অলিন্দে এখন শুধুই 'শব্দ লড়াই'। শুক্রবার একদিকে যখন নিউ টাউনে বসে বিজেপির ইস্তাহার (BJP Manifesto) প্রকাশ করছেন অমিত শাহ, ঠিক তখনই সাংবাদিক বৈঠক করে পদ্ম শিবিরকে বিঁধলেন মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা নিয়ে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি, বিজেপির ইস্তাহারকে অনুকরণ ও আশঙ্কার মিশেল বলে দাবি করলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক।
দিলীপকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তার পাল্টা দিয়ে সেলিম এ দিন বলেন, “দিলীপ ঘোষ লাখ লাখ বাদ পড়া ভোটারকে দেশদ্রোহী বলছেন। ওঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। কে দেশদ্রোহী আর কে নয়, সেটা কি দিলীপ ঘোষ ঠিক করে দেবেন?” সেলিমের অভিযোগ, ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে এবং একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে সুষ্ঠু ভোট হওয়া অসম্ভব।
‘ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা’
বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ এবং প্রচারে বামেদের গুরুত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ খোশমেজাজেই ধরা দিলেন সেলিম। শাহের মুখে বারবার বাম আমলের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অমিত শাহ ভয় পেয়েছেন বলেই সিপিএমের আমলকে বারবার সমালোচনা করছেন।” এমনকি তৃণমূলকে ছেড়ে বাম নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপির পোস্টার রাজনীতি নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। সেলিমের মন্তব্য, “বহু জায়গায় তৃণমূলকে গালাগালি না দিয়ে সিপিএমের কলতান, শতরূপকে গালাগালি দিচ্ছে পোস্টার দিয়ে। ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা।”
অনুকরণ ও ইস্তাহার বিতর্ক
বামেদের ইস্তাহার আগে প্রকাশিত হওয়াতেই তৃণমূল ও বিজেপি তড়িঘড়ি নিজেদের ‘সঙ্কল্পপত্র’ আনছে বলে দাবি করেন সেলিম। তাঁর মতে, শাসক ও বিরোধী দুই দলই মানুষের ভরসা হারিয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে ‘চক্রান্ত’ চলছে, তার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
শাহের ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ চ্যালেঞ্জ
এ দিকে, বিজেপির সঙ্কল্পপত্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউসিসি (UCC) চালু করা। এ দিন শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধিতা করলেও ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে বাংলায় এই আইন বলবৎ হবে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও গোয়ার পথ অনুসরণ করে বাংলাতেও যে গেরুয়া শিবির এই সামাজিক সংস্কার আনতে চায়, তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়াও ‘ধর্মাচরণের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে নতুন আইনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিজেপি।