চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদাররা দাবি করে আসছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করা হবে এবং সেখানে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। সেই হিসেবে শুক্রবারের ঘোষণায় টাকার অঙ্ক নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা না থাকলেও প্রকল্পের নাম কেন উহ্য রাখা হল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:15
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র তেরো দিন বাকি। ঠিক তার মুখেই শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ (BJP Election Manifesto 2026) প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এবারের সঙ্কল্পপত্রে গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস যে রাজ্যের মহিলা ভোটব্যাঙ্ক, তা শাহের ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের কথা বললেও, প্রকল্পের কোনও নির্দিষ্ট নাম ঘোষণা করেননি তিনি। আর এখানেই দানা বেঁধেছে রহস্য - কেন এই নামহীন প্রতিশ্রুতি?
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদাররা দাবি করে আসছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করা হবে এবং সেখানে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। সেই হিসেবে শুক্রবারের ঘোষণায় টাকার অঙ্ক নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা না থাকলেও প্রকল্পের নাম কেন উহ্য রাখা হল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এর নেপথ্যে বিজেপির দ্বিমুখী কৌশল থাকতে পারে। প্রথমত, বিজেপি যদি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা অন্য কোনও নতুন নাম ঘোষণা করত, তবে তৃণমূল খুব সহজেই প্রচার শুরু করে দিতে পারত যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেবে। সেই প্রচারের মোকাবিলা করতেই হয়তো অত্যন্ত কৌশলে কোনও নাম না দিয়ে শুধু টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যেহেতু রাজ্যের মহিলাদের কাছে একটি জনপ্রিয় ও ধারাবাহিক প্রকল্প, তাই নতুন কোনও নাম দিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে বিজেপি সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চাইছে যে - প্রকল্প যেমন চলছে তেমনই চলবে, শুধু সুবিধাভোগীরা আরও বেশি টাকা পাবেন।
তৃণমূলের ইস্তাহার বনাম বিজেপির সঙ্কল্পপত্র - দুই শিবিরের রণকৌশল দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এবারের ভোটের মূল লক্ষ্য মহিলা এবং যুব সমাজ। ভোটের ঠিক আগেই তৃণমূল সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়েছিল এবং বেকারদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতা ঘোষণা করেছিল। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মাস ছয়েক আগেও বেকার ভাতা নিয়ে বিজেপির বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু তৃণমূল যেহেতু ১,৫০০ টাকা ভাতার কথা ঘোষণা করেছে, তাই পাল্টা চালে বিজেপিও এখন সেই অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
বিষয় হল, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সময় এই ধরণের প্রকল্পগুলিকে ‘রেউড়ি’ বা খয়রাতি বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকি এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগের অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও বলা হয়েছিল যে, এই ধরণের প্রকল্প সরকারি কোষাগারে চাপ তৈরি করছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু লোকসভা ভোটে গ্রামীণ বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অভাবনীয় প্রভাব দেখার পর বিজেপিও এখন সেই একই পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের ১,০০০-১,২০০ টাকার বিপরীতে বিজেপির ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি মহিলা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।