দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই বিএসপি নেত্রী মায়াবতী জানিয়েছিলেন, তিনি এবার আর লোকসভা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না। কিন্তু পরে ইঙ্গিত দিলেন, ভোটে না দাঁড়ালেও প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে আছেন। দলিত নেত্রী টুইট করে সমর্থকদের বলেছেন, তিনি ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না বলে কারও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কেউ সাংসদ না হয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তার ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হয়।
মায়াবতী লিখেছেন, ১৯৯৫ সালে যখন প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম, আমি বিধানসভা বা বিধান পরিষদ, কোনও কক্ষেরই সদস্য ছিলাম না। তেমন কেন্দ্রেও কেউ মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যে লোকসভা অথবা রাজ্যসভার সদস্য হতে পারেন। সুতরাং আমি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি না বলে কারও দুঃখ পাওয়ার কারণ নেই।
https://twitter.com/Mayawati/status/1108317295489748992
৬৩ বছরের মায়াবতী এবার জোট বেঁধেছেন তাঁর বহুদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অখিলেশ সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, এবার নিজে প্রার্থী না হয়ে বিএসপি ও তার মিত্র সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে পুরো সময় ব্যয় করবেন। তাঁর কথায়, আমি নিজে ভোটে লড়ব না। আমি নিশ্চিত, আমার দল বুঝবে কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের জোটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ইচ্ছা করলে পরে কোনও সিট ফাঁকা করে দিয়ে সেখান থেকে লড়তে পারি।
মায়াবতীর জোটসঙ্গী অখিকেশকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান? তিনি সরাসরি কোনও জবাব দেননি। তবে গত জানুয়ারিতে যখন মায়াবতীর সঙ্গে ‘মহাগঠবন্ধন’-এর কথা ঘোষণা করেন, তখন বলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে খুশি হবেন।
গত কয়েক মাসে গোরখপুর ও ফুলপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন মহাগঠবন্ধনের প্রার্থীরা। মায়াবতী এবং অখিলেশের আশা, লোকসভা ভোটেও তাঁরা ভালো ফল করবেন। বিরোধী নেতারা অবশ্য অনেকে বলছেন, কংগ্রেসকে জোটের বাইরে রাখা ঠিক হয়নি। রাহুল ব্রিগেড উত্তরপ্রদেশে মহাজোটের ভোটে ভাগ বসাতে পারে। অখিলেশ বলেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরা অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলকে সাহায্য করব।
তাঁর কথায়, সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখন আর নতুন করে কারও সঙ্গে জোট হওয়া মুশকিল। তবে কংগ্রেস বড় পার্টি। আমরা অবশ্যই অন্যান্য দলকে সাহায্য করব।
বিজেপি থেকে অবশ্য বিরোধীদের মহাজোটকে বিদ্রুপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহাগঠবন্ধনকে বলেছেন ‘মহামিলাওট’। বিজেপির দাবি, এই জোটের সকলেই প্রধানমন্ত্রী হতে চায়।