
শেষ আপডেট: 27 May 2020 18:30
মার্কিন বিজ্ঞানীদের অনেকের এমনটাই মত। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রাক্তন ডিরেক্টর টম ফ্রিয়েডেনের বক্তব্য, অতিমহামারীর এই সঙ্কট হয়ত কাটিয়ে ওঠা যাবে তবে সুস্থভাবে বাঁচতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ও পদ্ধতি ঠিক করতে হবে সবচেয়ে আগে। এই ভাইরাসের শক্তিক্ষয় হতে অনেক বেশি সময়ই লাগবে, কারণ ইতিমধ্যেই বহুবার সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জেনেটিক মিউটেশন হয়ে গেছে। তাই শুধু ভ্যাকসিন বা ড্রাগ নয়, প্রতিরোধের আরও অনেক উপায় গড়ে তুলতে হবে সব দেশকেই।
কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রধান টেড্রস অ্যাডানাম ঘেব্রেইসাস জানিযেছিলেন, করোনাকে একেবারেই দমন করা এখনই সম্ভব হবে না। যার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকা ও টিকে থাকার কৌশল শিখে ফেলেছে। জিনের গঠন বদলে বদলে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে পৌঁছবার উপায়ও আয়ত্ত করেছে। শুরুতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন থুতু-লালাকে আধার বানিয়ে অর্থাৎ রেসপিরেটারি ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্তত ৬ ফুট অবধি বাতাসে ভেসে যেতে পারে এই ভাইরাস। কিন্তু এখন মার্কিন বিজ্ঞানীরাই দাবি করেছেন, ৬ ফুট নয় বরং রেসপিরেটারি ড্রপলেটের মাধ্যমে ৮ ফুট অবধি দূরত্ব ভেসে যেতে পারে এই ভাইরাস। মানুষের শরীরে হোক বা যে কোনও পদার্থের উপরে এদের টিকে থাকার ক্ষমতা বা ইনকিউবেশন পিরিয়ডের সময়কালও বেড়েছে। যেভাবে এই ভাইরাস তার রূপ বদলে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এখনই তার শক্তি কমে যাওযার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ বিজ্ঞানীরা সার্স-কভ-২ ভাইরাসের একাধিক জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন প্রতিটিই একে অপরের থেকে আলাদা। সেই কারণে ভাইরাসের ধরনে এবং তার রোগের উপসর্গেও ক্রমাগত বদল আসছে।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেসের ডিরেক্টর আরউইন রেডলেনার বলেছেন, করোনাকে নিয়েই যদি বাঁচতে হয় তাহলে তার থেকে সুরক্ষার উপায় ভাবতে হবে নানাভাবে। যেমন এমন দরজা বানাতে হবে যেখানে হ্যান্ডেল বা টেনে খোলার ব্যবস্থা নেই, রাস্তাঘাটে, দোকানবাজারে পারস্পরিক দূরত্ব এবং মাস্ক-গ্লাভস বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোভিড টেস্ট করাতে হবে রুটিন চেকআপের মতোই। ভ্যাকসিন চলে এলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার সঠিক ডোজ নিতে হবে। সেই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও জোর দিতে হবে।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার যে নতুন উপসর্গগুলো সামনে আসছে সেখান থেকে স্পষ্ট শুধুমাত্র শরীরে কোষেই নয়, জিনের উপরেও প্রভাব ফেলছে এই ভাইরাস। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, কোভিড পজিটিভ অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জরায়ুর প্লাসেন্টার মধ্যে অনিয়মিত রক্তপ্রবাহ ও ক্ষত দেখা গেছে।গবেষকদের দাবি, প্লাসেন্টার এই ক্ষতের জন্য করোনার সংক্রমণই দায়ী। যদিও প্লাসেন্টা থেকে ভাইরাল স্ট্রেন ভ্রূণের শরীরে পৌঁছবে কিনা সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা তাঁদের নতুন গবেষণায় দাবি করেছেন, ইউরোপের মানুষজনের মধ্যে এমন দুই জিনের খোঁজ মিলেছে যারা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। এই দুই জিনের উপরে কোভিড সংক্রমণের প্রভাব মারাত্মক। ৩৬ জন কোভিড রোগীর উপরে পরীক্ষা চালিয়ে ধেকা গেছে যাঁদের শরীরে ওই দুই জিন রয়েছে তাঁদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। কীভাবে ওই দুই জিনের সঙ্গে কোভিড সংক্রমণের যোগ রয়েছে সেটা এখনও স্পষ্ট করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে দাবি করেছেন, ওই দুই জিনের উপর সংক্রমণের প্রভাব পড়লে স্নায়ুর নিউরোনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে ঢিলেমি আসে। কখনও কখনও স্নায়ু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তথ্য আদানপ্রদানে আর অংশ নিতেই পারে না।