শনিবার বিকেলে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর (Mausam Noor)। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যা বড় ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাহুল গান্ধী ও মৌসম বেনজির নুর
শেষ আপডেট: 3 January 2026 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব কিছু ঠিকঠাক চললে এপ্রিল মাসে বাংলায় বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে শনিবার বিকেলে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর (Mausam Noor)। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যা বড় ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
মৌসম এখনও রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ। তবে এ বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার ঠিক আগেই এদিন নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস দফতরে পৌঁছে যান মৌসম। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ও মালদহ দক্ষিণের সাংসদ তথা ভাই ঈশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেসে ফিরে যান মৌসম নূর। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মৌসম বলেন, “মালদহে গণিখান চৌধুরীর ঐতিহ্যকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করতেই কংগ্রেসে ফিরেছি। তৃণমূল চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। সোমবার রাজ্যসভা থেকেও ইস্তফা দিয়ে দেব”।
কৌতূহলের বিষয় হল, রাজ্যসভায় ফের মনোনয়ন পাবেন না ধরে নিয়েই কি মৌসম কংগ্রেসে ফিরলেন? রাজনৈতিক সূত্রের মতে, সম্ভবত তা নয়। মৌসম সংখ্যালঘু নেত্রী। মালদহে একজন সংখ্যালঘু নেত্রীকে রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার ঝুঁকি হয়তো তৃণমূল নিত না। তবে হ্যাঁ, মৌসম যে তৃণমূলে খুব গুরুত্ব পাচ্ছিলেন তাও নয়। বনিবনার অভাব হচ্ছিল। সেই লক্ষ্মীন্দরের ছিদ্রপথেই তাঁকে ঘরওয়াপসির প্রস্তাব দেয় কংগ্রেস।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এটা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির ঘটনাই ঘটল। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছাড়ার পর এমনিতেই মুর্শিদাবাদে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এবার মালদহেও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হল। বড় কথা হল, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে অতীতে তৃণমূল কখনওই শক্তিশালী ছিল না। এমনকি ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে গোটা বাংলায় ২০০-র বেশি আসনে জিতলেও মালদহে তৃণমূল খাতাই খুলতে পারেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শীতলকুচির ঘটনার পর এই দুই জেলায় স্যুইপ করে কংগ্রেস। সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ঘটে যায় তৃণমূলের অনুকূলে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দেখা যাচ্ছে, এই দুই জেলায় শক্তিশালী সংখ্যালঘু নেতা বা নেত্রীরা তৃণমূলের থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন। সেটাই চলতি পরিস্থিতিতে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
এর আগে মালদহ দক্ষিণ আসন থেকে দুবার লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন মৌসম। রাহুল গান্ধী তাঁকে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী করেছিলেন। যুব কংগ্রেসের নেত্রী হিসাবে খুব সফল না হলেও মালদহে মূলত বরকত সাহেবের ঐতিহ্যকে সামনে রাজনীতি করছিলেন মৌসম। এহেন পরিস্থিতিতে মালদহ কিছু দুর্ভেদ্যই ছিল তৃণমূলের কাছে।
পরিস্থিতি বদলায় ২০১৬ সালের পর। ওই বছর ভোটে মালদহে একটা আসনেও জিততে না পারায় শুভেন্দু অধিকারীকে জেলার পর্যবেক্ষক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই বুঝতে পারেন, বরকত সাহেবের পরিবার থেকে কাউকে ভাঙাতে না পারলে জেলায় তৃণমূলকে শক্তিশালী করা মুশকিল। মৌসমকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন শুভেন্দুই।
এমনিতেই মালদহ দক্ষিণ আসন এখন কংগ্রেসের কাছে রয়েছে। লোকসভা ভোটে মালদহ উত্তরে জিতেছে বিজেপি। মৌসম ও ঈশা জুটি বাধায় মালদহে তৃণমূলের জন্য কিছুটা চাপই হল বলে অনেকের মত।